বগুড়ার শেরপুরে টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সোহাগ হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। সোহাগেরই বন্ধু সাগর এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার মির্জাপুরের আড়ংশাইলে সোহাগের ওপর লাঠি দিয়ে হামলা করা হয়। ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে তিনি সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতুর কাছে মারা যান তিনি। শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুব কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, এ ব্যাপারে নিহতের বাবা শাহ আলম শেরপুর থানায় ছেলের বন্ধু সাগরসহ চারজনের নাম উল্লেখসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
ওসি হুমায়ুন কবির ও অন্যরা জানান, শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে সোহাগ হোসেন ব্যবসা করতেন। তিনি তার বন্ধু মির্জাপুর গ্রামের সাগরের কাছ থেকে সাত হাজার টাকা ঋণ নেন। সোহাগ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দেওয়ায় দুই বন্ধুর সম্পর্কে অবনতি হয়। সাগর বুধবার রাত ৯টার দিকে মোবাইল ফোনে সোহাগকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে মোটরসাইকেলে মির্জাপুর-রানীরহাট সড়কের আড়ংশাইল তিনমাথায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে টাকা চাওয়া নিয়ে সাগর ও সোহাগের মাঝে বাকবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে সোহাগের ভাই আবদুল ওয়াহাব ও মামা শহিদুল ইসলাম সাবু ঘটনাস্থলে যান। তখন তারা সোহাগকে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে সাগর ও অন্যরা এতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে সাগর বাঁশের লাঠি দিয়ে সোহাগের মাথায় আঘাত করে। অচেতন অবস্থায় সোহাগকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার ভোরে যমুনা সেতুর কাছে সোহাগ মারা যান।
এলাকাবাসী বলেন, সোহাগ আইপিএল খেলায় সাত হাজার টাকা বাজি ধরে হেরে যান। টাকা না দেওয়ায় বন্ধু সাগর তাকে (সোহাগ) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মাথায় লাঠির আঘাতে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা এ দাবিকে মিথ্যা বলছেন।








