বগুড়ার পল্লিতে নদী থেকে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় উত্তোলনকারীদের হামলায় রিকশাচালক মোখলেসুর রহমান (৬৫) নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এজাহারে শেখেরকোলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এমদাদুল সরকারসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহতের ছেলে খোকন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর থানায় এ মামলা করেন। শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, নিহতের লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রাতেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাতেই থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। এজাহারে ইউপি সদস্য এমদাদুলসহ নয় জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বগুড়ার পল্লিতে নদী থেকে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় উত্তোলনকারীদের লাঠি ও রডের আঘাতে মোখলেসুর রহমান নিহত হন। আহত হন অন্তত ১০ জন। ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া ও অন্যরা জানান, সম্প্রতি শেখেরকোলা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তেলিহারা উত্তরপাড়া গ্রামে করতোয়া নদীতে একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ঠিকাদার এমদাদুল সরকার সেতু নির্মাণের জন্য নদী থেকে বালু উত্তোলন করছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বালু ট্রাকে তুলে অন্যত্র বিক্রি শুরু করেন। অবাধে ট্রাক চলাচল করায় গ্রামের রাস্তার ক্ষতি হচ্ছিল। তখন মোখলেসুর রহমান ও অনেকে বিরোধিতা করেন। একপর্যায়ে তারা ট্রাক চলাচল বন্ধের জন্য রাস্তার মধ্যে বাঁশের খুঁটি পুঁতে রাখেন। এতে ইউপি সদস্য ও ঠিকাদার এমদাদুল সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে বাহিনী নিয়ে তেলিহারা উত্তরপাড়া গ্রামে গিয়ে লোকজনকে মারপিট শুরু করে। এতে ৩-৪ জন আহত হন। স্বজনরা তাদের শহরতলির ঠেঙ্গামারা এলাকায় রফাতউল্লাহ কমিউনিটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সকাল ৯টার দিকে মোখলেসুর ও তার লোকজন হাসপাতালে ভর্তিদের চিকিৎসার খরচ দিতে যাচ্ছিলেন। তারা এমদাদুলের বাড়ির কাছে পৌঁছালে তাদের ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। রড ও লাঠির আঘাতে মোখলেসুরসহ ৬-৭ জন আহত হন। এদের একই হাসপাতালে ভর্তি করলে বেলা ১১টার দিকে মোখলেসুর মারা যান।








