সিরাজঞ্জের শাহজাদপুরের সমকাল সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার চার্জ গঠনের শুনানি তৃতীয়বারের মতো পিছিয়েছে। সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এ মামলার চার্জ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। বিচারক হাজির না থাকায় আগামী ২৪ এপ্রিল এ মামলার চার্জ গঠনের শুনানির দিন নতুন করে ধার্য করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের সহকারী সরকারি পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাড. মো. শামসুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, চার্জ গঠনের দিন ধার্য থাকলেও বিচারক হাজির না থাকায় এ মামলার প্রধান আসামি শাহজাদপুরের সাময়িক বহিষ্কৃত পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়নি।
আগামী ২৪ এপ্রিল এ মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। একই দিন দুটি মামলায়ই মিরুকে পৃথক দুটি আদালতে হাজির করার জন্য সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট সরবরাহ করা হতে পারে। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৯২০/১৮ নং মামলায় আগামী ২৪ এপ্রিল মিরুকে আদালতে হাজির করতে গত ৩১ জানুয়ারি জেলা কারাগারে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট পাঠানো হয়েছে বলে জেলা কারা তত্বাবধায়ক আল মামুন জানান।
বেঞ্চ সহকারী (পেসকার) লিয়াকত আলী জানান, সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলায় (এসসি-১৮৩/১৮) সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে আগামী ২৪ এপ্রিল চার্জ গঠনের শুনানির দিনে মিরুকে হাজির করার জন্য তারিখের আগেই জেলা কারাগারে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট সরবরাহ করা হবে।
শিমুল হত্যা মামলার মোট অভিযুক্ত আসামি হালিমুল হক মিরু এবং তার সহোদর হাবিবুল হক মিন্টুসহ ৩৮ জন। মিরু বর্তমানে জেলা কারাগারে থাকলেও বাকিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা কাজলকে অপহরণ ও মেয়রের বাড়িতে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর এবং হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে মিরুর দুই সহোদর মিন্টু ও পিন্টুর সঙ্গে স্থানীয় সরকার দলীয় লোকজনের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গিয়ে মিরুর শটগানের গুলিতে গুরতর আহত হন সাংবাদিক শিমুল। পরদিন বগুড়া থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে নিহত হন শিমুল। ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক শিমুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শাহজাদপুর থানায় মামলা করেন শিমুলের স্ত্রী।
পুলিশ তিন মাসের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। শাহজাদপুর আমলি আদালতের বিচারক ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট অভিযোগপত্রটি আমলে নেন। আলোচিত এ মামলার মুল বিচারিক কার্যক্রমের জন্য ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি শাহজাদপুর আমলি আদালত থেকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। এরপর এ মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে স্থানান্তর হয়। গত এক বছরেও সিরাজগঞ্জের এ দুটি আদালতে চার্জগঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।








