ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট খেলা নিয়ে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছে বগুড়ার তরুণ সমাজ। জেলার বিভিন্ন স্থানে যেমন- সেলুন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্লাব ও ঘরে বসছে জুয়ার আসর। শেরপুর উপজেলায় ৯ জনকে গ্রেফতারের পর প্রকাশ্যে এ জুয়া কমলেও এখন মোবাইল ফোনে তা জমজমাট হয়ে উঠেছে। বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, খুব গোপনে ও কৌশলে জুয়া খেলা চলছে। ফলে জড়িতদের গ্রেফতার করা খুব কঠিন। তারপরও তারা এ ব্যাপারে ব্যাপক তৎপর রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু আইপিএল নয় আন্তর্জাতিক ওয়ানডে, টেস্ট, টি-২০, বিপিএল, বিশ্বকাপ আসর, এমনকি দেশ-বিদেশের ঘরোয়া লিগ নিয়ে চলে জুয়া। কোন দল জিতবে, কোন খেলোয়াড় কত রান করবে, কোন বোলার কটা উইকেট নেবে-এমন অনেক বিষয় নিয়ে বাজি ধরা হয়। জুয়ার খেলোয়াড়রা দু’ভাবে খেলে। প্রথমত, একসঙ্গে কোনও দোকান, সেলুন, হোটেল বা ঘরে বসে জুয়া খেলে। এরা বাজির টাকা নগদ পরিশোধ করে। দ্বিতীয়ত বাড়ি, অফিস বা অন্যত্র বসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচিতদের সঙ্গে বাজি ধরে। এরা টাকা লেনদেন করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। প্রথম ধরনের জুয়া ২০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় জুয়া ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চলে।
বিভিন্ন পেশার মানুষ এ জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বেশি। লোভের বশবর্তী হয়ে দিনমজুর ও রিকশাচালকরাও জুয়া খেলছেন। এদের কেউ কেউ বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি ও সুদে ঋণ নিয়ে জুয়ায় অংশ নিয়ে সব হারাচ্ছেন। খেলা শুরুর আগেই জুয়াড়িরা টেলিভিশনের সামনে বসে পড়েন। সবার হাতে হাতে থাকে মোবাইল ফোন।
জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। সারিয়াকান্দির নিজবলাইল গ্রামে দশম শ্রেণির ছাত্র শিহাব প্রামাণিক গত বছর বন্ধুদের সঙ্গে আইপিএল জুয়ায় হেরে যায়। লজ্জা ও অপমানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এছাড়া শেরপুর উপজেলায় জুয়ায় হেরে ছুরিকাঘাতের ঘটনাও ঘটে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ৫ এপ্রিল আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরের মধ্যে খেলা হয়। আন্দ্রে রাসেল শেষ ১৬ বলের মধ্যে ১৩ বলে ৫৩ রান করে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে জিতিয়ে দেন। এ জয়-পরাজয় নিয়ে লাখ লাখ টাকার জুয়া চলে।
বগুড়ার শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর জানান, আইপিএল জুয়া শুধু বগুড়ায় নয়, পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ জুয়াতে তরুণ ও যুবকরা বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। তিনি তার শ্বশুরবাড়ি নীলফামারীতে গিয়েও এ জুয়া দেখেছেন।
তিনি আরও জানান, এ জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করা খুব কঠিন। এরপরও সতর্ক করতে গত ২ এপ্রিল ৯ জুয়াড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। থানার সব কর্মকর্তাকে জুয়াড়ি দেখামাত্র গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।








