দুই নেতাকে মারধরের জেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গোদাগাড়ী বাগানের সব গাছের লিচু প্রকাশ্যে পেড়ে নিয়ে গেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চাইবেন বলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন বাগানের ইজারাদার আব্দুল্লাহ ইবনে মনোয়ার।
সরেজমিন দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ মে) বিকালে ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী মিলে ওই বাগান থেকে লিচু পেড়ে বস্তাবোঝাই করেন। এরপর সেগুলো বিভিন্ন হলে তাদের রুমগুলোতে নিয়ে যান। এতে দেড় লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া বাগান এখন অনেকটাই লিচুশূন্য হয়ে গেছে।
গত মঙ্গলবার (৭ মে) রাতে ওই বাগানে লিচু পাড়তে গেলে ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মীকে মারধর করে প্রহরীরা। এতে ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাননের দুই হাত ভেঙে যায় ও উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদির পায়ে গুরুতর জখম হয়। ওই রাতেই ছাত্রলীগ নেতা ইমরান বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনের নামে মতিহার থানা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে ইজারাদারের কোনও লোকজনকে লিচু বাগানে দেখা যায়নি ।
বৃহস্পতিবার বিকালে ছাত্রলীগের নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক উপ-সম্পাদক মনির, ছাত্রলীগকর্মী মিনহাজ,মমিনুলসহ বেশ কয়েকজনকে ওই বাগানে ঢুকে লিচু পাড়তে দেখা যায়। এসময় তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে মনির গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তিনিসহ উপস্থিত সবাই নিজেদের সাধারণ শিক্ষার্থী দাবি করেন। তবে ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, মনিরসহ বাকি সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এবছর টেন্ডারের মাধ্যমে নগরীর ভদ্রা এলাকার আব্দুল্লাহ ইবনে মনোয়ার এক লাখ ৫২ হাজার টাকায় ওই বাগান ইজারা নেন। তিনি বাগানটি পাহারা দেওয়ার জন্য প্রহরী নিযুক্ত করেন। তবে লিচু পাড়তে আসা ছাত্রলীগ নেতাদের মারধর করায় তাদের নামে মতিহার থানায় মামলা হয়। পরে তারা বাগানে আসা বন্ধ করে দেন। বাগানটিতে প্রহরী না থাকার সুযোগে আজ (বৃহস্পতিবার) বিকালে ২০-২৫ জন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ঢুকে গাছগুলো ফলশূন্য করে ফেলেন। এমনকি ওই দলের কয়েকজন লিচুসহ গাছের ডাল কেটে ফেলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগানের ইজারাদার আব্দুল্লাহ ইবনে মনোয়ার মোবাইল ফোনে বলেন,‘ওই দিন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমাদের ঝামেলা হয়েছিল। এরপর থেকে আর ওদিকে যাইনি। আজ জানতে পেরেছি তারা সব লিচু পেড়ে নিয়ে গেছে। এভাবে বাগান সাবাড় করার ব্যাপারে আমি প্রশাসনের শরণাপন্ন হবো এবং প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেবো।’
তিনি অভিযোগ করেন,‘গত ৭ মে রাতে ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মী মুরাদ ও রুবেল নামের দুই প্রহরীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে লিচু পাড়ছিলেন। খবর পেয়ে আমরা বাগানে এলে তাড়াহুড়ো করে পালাতে গিয়ে কানন ও মেহেদি গাছ থেকে পড়ে যায়। পরে তারা দুইজনকে ধরে মারধর করি।’
তবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের লিচু পাড়ার কথা অস্বীকার করেছেন রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া। ছাত্রলীগের নেতারা বাগানের সব লিচু পেড়ে নিয়ে গেছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ওই ঘটনার পর থেকে বাগান ইজারা নেওয়া সংশ্লিষ্টরা পলাতক। এই সুযোগে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা হয়ত লিচু পাড়ছে।’
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মনিরের দুর্ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে এখনও কিছু শুনিনি।’








