রাজশাহীর বাগমারার খালিশপুর গ্রামের কামরুল ইসলাম (৩০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি এনামুল হককে (২৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ৯ মে ( বৃহস্পতিবার) বাগমারা থানা পুলিশের একটি দল তাকে সিরাজগঞ্জ সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতেখায়ের আলম শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনামুলকে গত ১০ মে (শুক্রবার) রাজশাহীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে এনামুল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতে এনামুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে কামরুলকে হত্যার দায় স্বীকার করেন।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামি এনামুল হক জানান, বাগমারা থানার মুরারীপাড়া এলাকায় সুদের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। কামরুল ইসলামের কাছ থেকে সুদের বিনিময়ে একসময় টাকা ধার নেন এনামুল হক। পরবর্তীতে সময়মতো টাকা ফেরত না দিতে পারায় তাদের মাঝে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া, কামরুলের সঙ্গে সুদের ব্যবসা নিয়ে তার চাচাতো ভাই গ্রেফতার মাহবুবুর রহমানের দ্বন্দ্ব ছিল। এ বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে মাহবুবুর রহমান কামরুলকে হত্যা করার জন্য এনামুলকে তিনলাখ টাকার প্রলোভন দেখান। এনামুল হক কৌশলে গত ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে কামরুলকে মোটরসাইকেলযোগে খালিশপুর বিলের মধ্যে নিয়ে যান। একপর্যায়ে জায়গাটি নির্জন হলে এনামুল হক ধারালো খুর গলাকেটে কামরুল ইসলামকে হত্যা করে এবং লাশটি ধানক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল বাগমারার খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা চয়েন মণ্ডলের ছেলে কামরুল ইসলামের লাশ একটি বিল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় চয়েন মণ্ডল বাগমারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বিভিন্ন সময় এ মামলার এজারভুক্ত ৫ আসামি মাহবুবুর রহমান, আব্দুল মজিদ ওরফে রনজু, মাহবুব, রহিদুল ইসলাম ও নাজমুল হককে গ্রেফতার করে। সর্বশেষ এনামুল হককে গ্রেফতার করা হলো। এনামুল বাগমারার মুরারিপাড়া গ্রামের রহিদুল ইসলামের ছেলে।








