ফোনে আড়িপেতে বগুড়ার দুই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ সদর দফতর। এ ঘটনায় বুধবার (৩ জুলাই) ওই দুই এএসআইকে বগুড়া থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার) দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জে পাঠানো হয়েছে। বগুড়া পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ লেনদেন বন্ধ করতে মোবাইল ফোনে আড়িপাতা হয়েছিল। বগুড়া পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন—বগুড়া ডিবি পুলিশের এএসআই শওকত আলম ও রিজার্ভ অফিসের এএসআই ফারুক হোসেন।
বগুড়া পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কনস্টেবল নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ দেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। সেই মোতাবেক নিয়োগে ঘুষ লেনদেনে জড়িতদের ধরতে পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোনে আড়িপাতা হয়। ঘুষ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলে বগুড়ার দুই এএসআই শতকত আলম ও ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। পুলিশ সদর দফতর থেকে তাদের স্ট্যান্ড রিলিজ করতে বগুড়ার পুলিশ সুপারকে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার তাদের ছাড়পত্র দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জে পাঠানো হয়েছে।
বগুড়া ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আসলাম আলী জানান, দুই এএসআইকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তবে তিনি এর কারণ সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি। বগুড়ার সদ্য পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডলও স্ট্যান্ড রিলিজের কারণ জানাতে পারেননি। তিনি জানান, সদর দফতর সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ওই দু’জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া এএসআই শওকত আলম বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দুপুরে জানান, তিনি জয়পুরহাটে অভিযানে ছিলেন। এছাড়া কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষের ব্যাপারে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলেননি। পুলিশের কোনও কুচক্রি মহল তাকে ও পুলিশ সুপারকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, ‘আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলেছি, এমন অপরাধ করলে আমাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হোক। আমি মিথ্যা অপবাদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করবো।’
বগুড়া পুলিশ সূত্র জানায়, এ বছর সাধারণ কোটায় ৫৪ জন ও বিশেষ কোটায় ১৮৫ জন কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে। গত বুধবার প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার লিখিত পরীক্ষা হয়েছে। কোনও অনিয়মের ব্যাপারে সদর দফতর থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা ১০০ টাকায় কনস্টেবল নিয়োগের ঘোষণা দেন। এ ব্যাপারে থানায় থানায় মাইকিং, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারণা চালানো হয়েছে।
কনস্টেবল নিয়োগের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ায় ডিবি পুলিশ এর আগে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের কর্মচারী আনোয়ার হোসেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার আনসার সদস্য জুলহাস উদ্দিন ও আহসানুল কবির নামে তিন জনকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা করা হয়।








