সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে গত ক’দিনে ১১ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ৯ জন এখানেই ভর্তি আছেন। এসব রোগীরা মূলত ঢাকা বা অন্য কোথাও থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে সিরাজগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত কতজন, কোথায় তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন সে সংক্রান্ত তথ্য কোনও নেই জেলা সিভিল সার্জন অফিসে। এমনকি,সদর হাসপাতালে কতজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন বা চিকিৎসা নিচ্ছেন তার তথ্যও নেই।
এদিকে, সদর হাসপাতালের মল-মূত্র ও রক্ত পরীক্ষার অ্যানালাইজার মেশিনটি দীর্ঘদিন থেকে বিকল। তাই ডেঙ্গু শনাক্তে রক্তের পরীক্ষা এখানে না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রোগীর স্বজনরা। এছাড়া চিকিৎসক সংকট থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সদর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ লতিফা বেগম জানান, শাহজাদপুরের আব্দুল হাই, সদরের সুজন, সুজন শেখ ও তার ভাই রিপন, ইমন, উল্লাপাড়ার শিদুল, কাজিপুরের শরিফুল, বেলকুচির রেজাউল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আশিক কুমারসহ ৯ জন গত কয়েক দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. শামসুল আরেফিন সুজন জানান, মেডিসিন ওয়ার্ডে হাসপাতালের নিজস্ব চিকিৎসক নেই। মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা সংযুক্ত হয়ে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। সুজন ও রিপন নামে দু’জনকে বগুড়ায় রেফার্ড করা হয়েছে।
পরীক্ষাগারের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, এনালাইজার মেশিনটি বিকল এবং ডেঙ্গু পরীক্ষার রিএজেন্ট নেই। এনএস-ওয়ান, প্লাটিলেট বা হেমাটোলজি পরীক্ষারও সুযোগ আপাতত নেই। কিট দিয়েই ডেঙ্গুর প্রাথমিক পরীক্ষা করা হচ্ছে মাত্র।
শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষাগারে মেশিন থাকলেও দক্ষ জনবল নেই। হাসপাতালের টেকনিশিয়ানদের এ ল্যাবে এসে পরীক্ষা করতে বলেছিলাম, কিন্তু তাও সম্ভব হচ্ছে না।’
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগী ভর্তির তথ্য আমার কাছে নেই। ওয়ার্ডে গিয়ে খবর নিতে হবে।’
সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম হোসেন বলেন, ‘জেলায় কতজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বা অন্য কোথাও চিকিৎসা নিয়েছেন কিনা তার তথ্য আমার জানা নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বৃহস্পতিবার একটি চিঠি পেয়েছি। রবিবার থেকে এ বিষয়ে গণসচেতনতার পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের পরিসংখ্যানের হিসাবের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।’








