দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানিগুলো পাবনায় দুধ ক্রয় ও বিপণন কার্যক্রম বন্ধ রাখায় সড়কে দুধ ঢেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় খামারিরা। সোমবার (২৯ জুলাই) জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় তারা এ কর্মসূচি পালন করেছেন।
দুপুরে ভাঙ্গুড়া উপজেলা শহরের প্রবেশপথে অর্ধশতাধিক খামারি সড়কে দুধ ঢেলে প্রতিবাদ জানান। এর আগে, খামারিরা সেখানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের দুগ্ধ সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপক ও খামারিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পারভাঙ্গুড়া গ্রামের খামারি হাসিনুর রহমান, দুগ্ধ সমিতির ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ, উপজেলা পাড়ার খামারি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় বড় ও মাঝারি আকারের ৭৪৫টি দুধের খামার রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের খামারের সংখ্যা আছে প্রায় দুই হাজার ২০০। এসব খামার থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় ৬৫ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন করা হয়। মিল্কভিটা, ব্র্যাক, প্রাণ, আকিজ ও বারো আউলিয়া দুধ কোম্পানির ২৮টি ক্রয় ও শীতলীকরণ কেন্দ্র উৎপাদিত এ দুধের ৮০ ভাগ ক্রয় করে। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশে দুধ ক্রয় বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন উপজেলার দুই হাজারের মতো খামারি।
খামারি হাসিনুর রহমান বলেন, ‘আমার খামারে প্রতিদিন ৬০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। দুধ বিক্রির টাকার ওপর ভরসা করে আমি ব্র্যাক ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা লোন নিয়ে তিন মাস আগে দুটি গাভী কিনেছি। ব্যাংকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। এখন দুধ বিক্রি করতে না পারলে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করবো কীভাবে? বাইরে দুধ বিক্রি করতে গেলে ছয়শ’ থেকে সাতশ’ টাকা মণ দরে দুধ বিক্রি করতে হয়। ওই টাকায় গাভী প্রতিপালন করবো, নাকি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করবো? এভাবে চলতে থাকলে গাভী বিক্রি করে দেওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না।’
ভাঙ্গুড়া পৌরসভার মেয়র ও দুগ্ধ খামারি গোলাম হাসনায়েন রাসেল বলেন, খামারিদের বিরুদ্ধে দুধে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন। দুধে কোনও ভেজাল বা রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া গেলে সেটা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মচারীরা করেন। এর দায়ভার খামারিরা নেবেন না।
ভাঙ্গুড়ার মিল্কভিটার ব্যবস্থাপক আশরাফুজ্জামান বলেন, হাইকোর্ট ও কোম্পানির প্রধান অফিসের নির্দেশে সোমবার সকাল থেকে দুধ ক্রয় বন্ধ আছে। এতে খামারিরা দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুধ ক্রয় বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।








