রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। ২৫ নম্বর চক্ষু ওয়ার্ডের পুরুষদের জন্য বরাদ্দ ছানি রোগীদের ইউনিটকে নিয়ে এই ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলা হয়েছে।
রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম ফেরদৌস বলেন, ‘সোমবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে একজন ডেঙ্গু রোগীকে ভর্তির মধ্যে দিয়ে এই ওয়ার্ডের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চারজন চিকিৎসক ও ছয়জন নার্স দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রার চিকিৎসকরা সেখানকার ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম মনিটরিং করবেন।’
জানা গেছে, এর আগে তিনটি বেড নিয়ে হাসপাতালের ১৭ নম্বর কেবিনটিকে ডেঙ্গু কর্নার হিসেবে ঘোষণা করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের মশারি টানিয়ে ডেঙ্গু রোগীদের ভর্তি ও চিকিৎসা চলছিল। তবে ২৫ নম্বর চক্ষু ওয়ার্ডের চারটি ইউনিট রয়েছে। সেখানে পুরুষদের জন্য ছানি ইউনিটে ১৭টি বেডের সঙ্গে আরও তিনটি বেড সংযুক্ত করে ওয়ার্ডটি মোট ২০ শয্যার আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রূপ দেওয়া হয়।
এদিকে, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে মোট ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। তার অবস্থাও অনেকটা উন্নতির পথে। বাকি ৩২ জন ডেঙ্গু কর্নার ও ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তবে এখন পর্যন্ত কেউই রাজশাহীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হননি। সবাই ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আক্রান্ত হয়ে রামেক হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হয়েছেন।
ডা. সাইফুল ইসলাম ফেরদৌস আরও বলেন, এবার ঢাকায় আক্রান্তের পর থেকে সোমবার (২৯ জুলাই) রাত ৯টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৫৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২০ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িও ফিরে গেছেন। আর ডেঙ্গু শনাক্তকরণের জন্য এনএসওয়ান রক্ত পরীক্ষার ‘স্ট্রিপ’ ও ‘রিএজেন্ট’ সরবরাহের ব্যবস্থাও হয়েছে। বর্তমানে সিবিসি ও প্লাটিলেট পরীক্ষার ব্যবস্থা হাসপাতালে আছে। আগে স্ট্রিপ এবং রিএজেন্ট সরবরাহ না থাকার কারণে এনএসওয়ান পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে রোগীদের বাইরের ক্লিনিকে এ পরীক্ষাটি করাতে হয়েছে। এখন সেগুলোর ব্যবস্থাও হয়েছে।








