হাইকোর্টের জাল আদেশ ও নথি তৈরি: ৩১ ইটভাটা মালিককে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

দিনাজপুর প্রতিনিধি
০৮ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৪৬আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৪৮

 

দিনাজপুর ইটভাটা চালাতে উচ্চ আদালতের জাল আদেশ ও নথি তৈরির অপরাধের মামলায় ৩১ ইটভাটা মালিককে একদিন জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এরমধ্যে দিনাজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যানও রয়েছেন। বুধবার (৭ আগস্ট) দিনাজপুরের সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল আমলি আদালতের (পার্বতীপুর-চিরিরবন্দর) বিচারক শিশির কুমার বসু এই আদেশ দেন।

আসামিদেরকে আদালতে হাজির করে সিআইডির পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদেরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। বিচারক একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক ইসরাইল হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

৩১ ইটভাটার মালিকরা হলেন- দিনাজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পার্বতীপুর উপজেলার এইচবি ব্রিকসের মালিক এজেডএম রেজওয়ানুল হক, ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান ও রহমান ব্রিকসের আতাউর রহমান মিল্টন, অর্নব ব্রিকসের নুর আলম ও ইব্রাহিম আলম মন্ডল, জেএস ব্রিকসের শাহরিয়ার ইফতেখারুল আলম চৌধুরী, এআর ব্রিকসের মাহফুজুল হক আনার, নবী ব্রিকসের মাসুদুর রহমান চৌধুরী, এলএইচবি ব্রিকসের লোকমান হাকিম, এসবি ব্রিকসের মঞ্জুরী শাহাদৎ, এমবি ব্রিকসের মাসুদ রানা, এএম ব্রিকসের রবিউল হাসান, এনআইচ ব্রিকসের নাজমুল হুদা, আরএ ব্রিকস-১ এবং আরএ ব্রিকস-২ এর রফিকুল ইসলাম, এএস ব্রিকসের এসএম হায়দার, এসপি ব্রিকসের পলাশ কুমার রায়, শফি ব্রিকসের শফিকুল ইসলাম, আরটি ব্রিকসের তাসরিফুল ইসলাম, ফাইভ স্টার ব্রিকসের নজরুল ইসলাম, এসএ ব্রিকসের আমানুল্লাহ প্রামানিক, মাইশা ব্রিকসের রেজাউল ইসলাম, কাজী ব্রিকসের কুদরই খোদা ও আসাদুজ্জামান, এনআরবি ব্রিকসের শফিকুর রহমান, পিআর ব্রিকসের পলিন চন্দ্র রায়, বারী ব্রিকসের ফখরুল ইসলাম শাহ সাজু, আরবি ব্রিকসের রবিউল আলম মুন্সি, হক ট্রেডার্সের জিকরুল হক, যমুনা ব্রিকসের হাসান শাহরিয়ার, এআরবি ব্রিকসের রেজওয়ানুল হক, আজাদ ব্রিকসের আবুল কালাম আজাদ ও হামিদ অ্যান্ড সন্স ব্রিকসের মোকাররম হোসেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ইটভাটা নিয়ে শিশুর উদ্বেগের খবর তুলে ধরে এ নিয়ে পৃথক রিট চূড়ান্ত শুনানির উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে পাওয়া একাধিক ‘কথিত’ আদেশ আদালতের নজরে আনে রাষ্ট্রপক্ষ। রিট দুটি হচ্ছে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর দায়ের করা ১৫০৯৩/২০১৭ ও অন্যটি ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর দায়ের করা ১৪৬০৫/২০১৮ নম্বর রিট। ২০১৭ সালে কথিত রিটে আবেদনকারী ২২ জন এবং ২০১৮ সালে কথিত রিটে আবেদনকারী ২৬ জন। এরপর আদালত সংশ্লিষ্ট শাখার সুপারকে ডেকে রিট আবেদন ও রাষ্ট্রপক্ষের দেখানো আদেশের নথি সরবরাহ করতে মৌখিক নির্দেশ দেন। আদালত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছ থেকে ওই মামলা দুটির আদেশের নকলের ফটোকপি সংগ্রহ করে নথি সরবরাহ করারও নির্দেশ দেন। পরে নকলের ফটোকপি যাচাই করে দেখা গেছে ওই নকলগুলো রিট শাখা থেকে সরবরাহ করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্টদের সই জাল করা হয়েছে। এরপর ৩০ এপ্রিল উচ্চ আদালত এক আদেশে ৩১ ইটভাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ওই তিন জেলার (দিনাজপুর, রংপুর ও নীলফামারী) পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।  ২০ মে দুই বিচারপতির ওই বেঞ্চ ৩১ ইটভাটার মালিককে হাজির করে ওই দিনই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পুলিশ সুপারদেরকে নির্দেশ দেন। বিষয়টি তদন্ত করে জাল আদেশ তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের সিআইডি বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা মোতাবেক ২২ জুন পার্বতীপুর থানায় এসআই আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ৩১ জন ইটভাটা মালিককে আসামি করে মামলা (পার্বতীপুর থানার মামলা নম্বর- ২৩, তারিখ ২২/৬/১৯, ধারা ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৩৪ দণ্ড বিধি এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ক্রিমিনাল কেস নম্বর- ১৬০২/১৯, জিআর নম্বর- ২০১/১৯ পার্বতীপুর) দায়ের করেন।

বাদী তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, আসামিরা ভুয়া সৃষ্টির লক্ষ্যে পার্বতীপুর উপজেলার রেজওয়ানুল হক সাহেবের বাসায় বসে ষড়যন্ত্র করে হাইকোর্টের ভুয়া আদেশ সৃষ্টি করে কৃষি, আবাদী জমি ফসল বিনষ্ট করে ইট প্রস্তুত করে আসছিল। তারা পরস্পর যোগসাজসে আর্থিক লাভের প্রত্যাশায় পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ও ইটভাটার লাইসেন্স না থাকা পরও ইটভাটা চালু রাখার ভুয়া দুটি জাল ও রিটের আদেশ সৃষ্টি করে অপরাধ করায় তাদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইনের ৮(১) ধারায় উৎপাদন, প্রতিপালন না করে ইচ্ছামত পরিবেশগত সংকটাপন্ন সৃষ্টির অভিযোগ থাকায় হাইকোর্টের আদেশে মামলাটি দায়ের করা হয়। ২৯ আগস্ট উচ্চ আদালতের নির্দেশে পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২৭ ইটভাটা মালিক জেলা ও দায়রা জজ কোর্ট আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক আজিজ আহমেদ ভুঞা তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে চারটি ইটভাটা মালিক গ্রেফতার ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, এই বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হয়বতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে যমুনা ইটভাটার কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ সমস্যার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে ভাটা বন্ধের দাবি জানিয়ে চিঠি লিখে পাঠায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মাইশা মনওয়ারা মিশু। চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এবং নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ওই শিশুর সঙ্গে কথা বলেন। পরে ভাটাটি বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। এদিকে ভাটা বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করে স্থানীয় প্রশাসন অভিযানকালে দেখতে পায় লাইসেন্স না থাকলেও উচ্চ আদালতের রিটের মাধ্যমে যমুনা ইটভাটাটি চলছে।

 

/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, পুলিশের তদন্ত কমিটি
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, পুলিশের তদন্ত কমিটি
কট্টরপন্থি ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
কট্টরপন্থি ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম