বগুড়া সদরে পারিবারিক বিরোধে প্রতিবন্ধী শিশু রিপন মিয়া (১৩) হত্যার দায়ে পাঁচ যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামিকের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, হত্যার পর লাশ গুম করায় আসামিদের সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও একবছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বগুড়ার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শরনিম আকতার এ রায় দেন। এসময় বিচারক বলেন, দুই ধরনের সাজা একসঙ্গেই চলবে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন পলাতক; যাদের গ্রেফতারের পর তাদের সাজা কার্যকর হবে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো– বগুড়া সদরের বারপুর মধ্যপাড়ার দুদু মিয়ার ছেলে ইউসুব (৩০), একই এলাকার মোস্তফার ছেলে সজিব (২৬), শাহজাহানের ছেলে রাশেদ (২৪), মাটিডালি মধ্যপাড়ার কুদ্দুস প্রামাণিকের ছেলে সাব্বির আহম্মেদ মালু (২৪) এবং একই এলাকার মাসুদ প্রামাণিকের ছেলে রিহান (২৪)। এর মধ্যে রায় ঘোষণার সময় রিহান ও মালু আদালতে উপস্থিত ছিল। আর সজিব, রাশেদ ও ইউসুব পলাতক রয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, প্রতিবন্ধী রিপন এক রঙ-মিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করতো। ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির সামনে দোকান থেকে সে নিখোঁজ হয়। এর পাঁচদিন পর ১৫ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চাঁদপুর গ্রামের একটি জঙ্গলে তার ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। শেয়াল-কুকুর তার হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলে। পরদিন তার বাবা সদর থানায় ইউসুব, মালু ও সজিবসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জুলহাস উদ্দিন ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল আদালতে পাঁচজনের নামে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এ ছাড়া, অপর আসামি বারপুর মধ্যপাড়ার শাহ আলমের ছেলে পাপ্পুর (১৫) বিরুদ্ধে কিশোর আদালতে পৃথক চার্জশিট দেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে গ্রেফতার করা হলে রিহান, পাপ্পু ও মালু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি নাসিমুল করিম হলি ও সাব্বির আহম্মেদ বিদ্যুত এবং আসামিপক্ষে বিনয় কুমার দাষ বিশু মামলা পরিচালনা করেন।








