বগুড়ার ধুনটের গজারিয়া গ্রামে মা খুকি খাতুনকে (৬৫) পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ছেলে সোহানুর রহমান খোকন (৩২) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম জবানবন্দি রেকর্ডের পর তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। ধুনট-শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান এ তথ্য জানান।
আদালতে স্বীকারোক্তিতে খোকন বলেছে, রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে নেশার টাকার জন্য বাবা আবদুস সামাদ মণ্ডলকে চাপ দেয় সে। তবে বাবা টাকা না দেওয়ায় সে মাকে ঘরে আটকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তাকে ধরে ফেলে এবং মারপিট করে পুলিশে দেয়।
ধুনট থানা পুলিশ জানায়, সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত খুকি খাতুনের বড় ছেলে জাকির হোসেন থানায় খোকনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে, তার ঘরে দেশীয় অস্ত্র, মদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে। পরে ঘরে অভিযান চালিয়ে দুটি ধারালো অস্ত্র, দেশি-বিদেশি মদ, গাঁজা, ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি এবং হত্যায় ব্যবহৃত পেট্রোলের কন্টেইনার উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে থানায় খোকনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আগেরও দুটি মাদক মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টার দিকে খোকন ধারালো অস্ত্র ধরে মা খুকি খাতুনকে জিম্মি করে বাবা সামাদ মণ্ডলের কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে। বাবা টাকা দিতে রাজি না হলে হাঁসুয়া দিয়ে ভয় দেখায় সে। তখন বাবা বাধ্য হয়ে টাকা সংগ্রহের জন্য প্রতিবেশীদের কাছে যান। টাকা না পাওয়ায় সামাদ মণ্ডলের বাড়িতে ফিরতে দেরি হলে সে নিজের মোটরসাইকেল থেকে পেট্রোল বের করে ঘরে যায়। উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্সে মিউজিক চালিয়ে দেয়। প্রথমে মায়ের মুখে কাপড় গুজে দেয়। এরপর রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। মাকে ঘরের মেঝেতে ফেলে দিয়ে গায়ের ওপর কম্বল বিছিয়ে দেয়। পরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন খুকি বেগমের পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। মুখে কাপড় থাকায় তিনি চিৎকার করতে পারেননি। এ সময় খোকন ঘর থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা তাকে ধরে পুলিশে দেয়। তারা খুকি খাতুনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাবতলীর গোলাবাড়ি এলাকায় খুকি মারা যান।








