তালিকায় নাম থাকার পরও সাত মাসেও ভিজিডি কার্ড পাননি অন্তত ২০ দুঃস্থ নারী। তবে তাদের কার্ড দিয়ে নিয়মিত চাল ওঠানো হচ্ছে। কে বা কারা চাল তুলে নিচ্ছে তা কেউ বলতে পারছেন না। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে। ইউনিয়নের এক সদস্য এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান রোস্তম আলী মন্ডল। তিনি বলেন, ছয়টি কার্ড ভুল করে অন্যরা পেয়েছিল। সেগুলো প্রকৃত দুস্থদের দেওয়া হয়েছে এবং তারা চাল পাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে জোড়গাছা ইউনিয়নে ৪৩০ জন দুস্থ নারীর তালিকা তৈরি করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্ডধারী প্রতি নারী ৩০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন। তবে তালিকায় নাম থাকার পরও অন্তত ২০ নারী কার্ড না পাওয়ার অভিযোগ করেন। তারা কার্ড না পেলেও অন্য কেউ তাদের নামে চাল তুলে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
কার্ড না পাওয়া সোনাকানিয়া গ্রামের আজেবা বেগম, রেবেকা বেগম, লেবু বেগম, ছিচারপাড়া গ্রামের রানী বেগম, দুলালী বেগম ও রেহেনা বেগমের অভিযোগ, তালিকায় তাদের নাম থাকলেও তারা কার্ড ও চাল পাননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জোড়গাছা ইউনিয়নের এক সদস্য জানান, ৪৩০ কার্ডের মধ্যে তালিকায় নাম থাকা অন্তত ২০ দুস্থ নারীকে কার্ড দেওয়া হয়নি। তাদের নামে তোলা কার্ড দিয়ে অন্য কেউ চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন। প্রকৃত দুস্থরা ভিজিডি কার্ডের সুবিধা না পাওয়ায় সরকারি সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জোড়গাছা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাহাদৎজ্জামান রুবেল জানান, তালিকায় নাম থাকা পরও অন্তত ২০ নারী ভিজিডির কার্ড ও চাল পাননি। এর মধ্যে ছয় জনের নাম তার কাছে রয়েছে। তবে এ অনিয়মের সঙ্গে কে জড়িত সে সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
চেয়ারম্যান রোস্তম আলী জানান, সাবেক মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ভুল করে ছয়টি কার্ড অন্যদের দিয়েছিলেন। সেসব কার্ড প্রকৃত দুস্থদের দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তারা নিয়মিত চাল পাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে সোনাতলা উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জাকির জানান, ভিজিডি কার্ড বিতরণে কোনও অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








