‘কিছুদিন পরই ধান উঠবে, এসময় সর্বনাশ হয়ে গেলো’

রাজশাহী প্রতিনিধি
২৯ অক্টোবর ২০১৯, ১০:১৯আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩০

টানা বর্ষণে ও পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ধান ক্ষেত

‘আমার দুই জমির মধ্যে এক জমির অর্ধেক ধান এখন পানিতে। আর কিছুদিন পরেই ধানগুলো উঠবে। কিন্তু এর মধ্যে এই আবহাওয়া। আমার সর্বনাশ হয়ে গেলো।’ হতাশ হয়ে কথাগুলো বলছিলেন পুঠিয়া কাঁঠালবাড়িয়া এলাকার কৃষক মেরাজুল ইসলাম। রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পুঠিয়া উপজেলায় কয়েক দিনের টানা (গত বুধবার থেকে শনিবার) বৃষ্টিতে আমন ধানের পাতায় পচন ও পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ কারণে ধান গাছগুলো হেলে পড়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক।  

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর এলাকার কৃষ্ণপুরের কৃষক আজাহার উদ্দীন জানান, এবার তিনি ১০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। এরমধ্যে ৮ বিঘা জমিতে রোপণ করা ব্রি-৫১ ধানে বাদামি ফড়িং পোকা আক্রমণ করেছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও পোকা দমন হচ্ছে না।

গোদাগাড়ী উপজেলার আইহাই রাহীর এলাকার কৃষক এনামুল বলেন,‘ধান গাছের গোড়ায় পচন ধরায় লালচে হয়ে ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ধান গাছের বিভিন্ন অংশে বাদামি ফড়িং পোকার আক্রমণের কারণে গাছের চারার রস কমে শুকিয়ে যাচ্ছে। এসব আমন ধানের গাছে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার ও কীটনাশক স্প্রে করেও কোনও লাভ হচ্ছে না।’

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলায় আমনের চাষ হয়েছে ২৪ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে। চিকন স্বর্ণা, গুঠি স্বর্ণা ও ব্রি-৫১সহ বিভিন্ন জাতের ধান রয়েছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পোকা দমনে কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও কৃষকদের সহযোগিতায় কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের কাজ করছেন।’

ক্ষতিগ্রস্ত ধান ক্ষেত দেখে হতাশ হতাশ কৃষক

এদিকে এবারের মৌসুমে পুঠিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় মোট ৫ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষ করা হয়েছে। রোগ-বালাইমুক্ত ও অনুকূল আবহাওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়ে ছিল ২৬ হাজার ৪৬০ মেট্রিক টন। তবে দূর্যোপূর্ণ আবহাওয়ায় সে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার ও স্থানীয় কৃষকরা।

পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ করিম বলেন, ‘এই মুহূর্তে অধিকাংশ জমির ধানে পাকা রং ধরেছে। আর ধান পেকে গেলে গাছের গোড়া স্বাভাবিকভাবেই নরম ও ধানের শীষের কারণে মাথা ভারি হয়ে যায়। তার ওপর বৃষ্টি আর বাতাসের কারণে কিছু জমিতে ধান ঝড়ে গেছে। তবে এই মুহূর্তে কৃষকদের আমরা জমির পানি বের করে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। নিচু জমিতে থাকা ধান পানির নিচে আছে। এর ফলনও কম হতে পারে।’

জিউপাড়া এলাকার কৃষক মোজাহার আলী বলেন, ‘এ বছর দাম কম থাকায় মাত্র চার বিঘা জমিতে ধান রোপন করেছি। ধান ক্ষেত এখন পেকে গেছে। কিন্তু গত তিন দিনের বৃষ্টিতে দুই বিঘা জমির ধান পড়ে গেছে। যার কারণে এবার ধানের ফলন প্রায় অর্ধেকেরও কম হবে।’

এ ব্যাপারে পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মঞ্জুর মাওলা বলেন, ‘খারাপ আবহাওয়ায় গোটা উপজেলায় প্রায় ১০০ হেক্টরের বেশি জমির ধান পড়ে গেছে। এতে কৃষকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

 

   

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম