জয়পুরহাট ছোট যমুনা নদীর ওপর নির্মিত শহর রক্ষা বাঁধ অবৈধ দখলমুক্ত করতে উত্তর জয়পুর এলাকার বস্তির ৮৫ পরিবারকে উচ্ছেদ নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ২৬ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিল্টন চন্দ্র রায় এই নোটিশ দিয়েছেন।
বস্তির বাসিন্দা শাহনাজ বেগম বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর ধরে এখানে বাস করছি। নোটিশ পাওয়ার পর দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।’
সুমী আক্তার বলেন, ‘সমিতি গঠন করে পাঁচ বছর ধরে পরিশ্রম করার পর পৌরসভার মাধ্যমে ৮১ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় হঠাৎ করেই উচ্ছেদ নোটিশ পেয়ে আমরা দিশেহারা। আমাদের যদি উচ্ছেদই করা হবে, তাহলে উন্নয়নের জন্য পৌরসভা থেকে এতগুলো টাকার প্রকল্প নেওয়া হলো কেন?’
জয়পুরহাট পৌরসভায় কর্মরত বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, ‘বস্তিবাসির উন্নয়নে গত পাঁচ বছর ধরে আমরা কাজ করছি। তাদের স্বনির্ভর করার চেষ্টা করছি। বস্তির উন্নয়নে পৌরসভার পক্ষ থেকে ৮১ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৮ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ২০ লাখ টাকায় রাস্তা ও টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। এক বছরের মধ্যে পরবর্তী তিন ধাপে অবশিষ্ট উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।’
জয়পুরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র সেলিমুর রহমান বাবুল বলেন, ‘বস্তিবাসীর বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বিষয়টি নিয়ে মেয়র প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন। আশা করছি, প্রশাসনও বস্তিবাসীর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নেবে।’
জয়পুরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সংস্কারের জন্য জয়পুরহাটে বিভিন্ন নদীর ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে প্রশাসন অবৈধ দখলদার হিসেবে উত্তর জয়পুর বস্তিবাসীকে নোটিশ দিয়েছে।’
জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিল্টন চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা মেনে বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ গেলেও ভূমিহীন পরিবার হিসেবে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় আছে।’








