বগুড়ার ধুনটে গোসাইবাড়ি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসায় বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। ছিল না কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজনও। শুধু বিজয় দিবসই নয়, কোনও জাতীয় দিবসে মাদ্রাসায় পতাকা উত্তোলন করা হয় না বলে জানা গেছে। স্থানীয় অভিযোগ, ওই মাদ্রাসার সুপার জামায়াপন্থী। এজন্য বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারিসহ জাতীয় দিবসগুলো পালন করা হয় না। যদিও তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গোসাইবাড়ি বাজারের নিপুচা আকন্দ নামে এক শিক্ষানুরাগী ১৯৪২ সালে নিউ স্কিম জুনিয়র মাদ্রাসার জন্য জায়গা দান করেন। নোয়াখালী থেকে আসা মাওলানা মনসুর মাদ্রাসায় লেখাপড়ার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর মাদ্রাসাটি পড়ে ছিল। জায়গা দান করার সময় শর্ত ছিল, মাদ্রাসা না থাকলে মালিক জায়গাটি ফিরে পাবেন। স্বাধীনতার পর মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১৫ বছর আগে ওই জায়গায় গোসাইবাড়ী স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কাগজ-কলমে মাদ্রাসা থাকলেও কোনও শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দেখা যায়নি। মাদ্রাসার ভেতরে কয়েকটি বেঞ্চ থাকলেও ময়লা-আবর্জনায় ভরা। শ্রেণিকক্ষে ইট-বালু রাখা হয়েছে। সুপার ইউনুস আলী মাদ্রাসার নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখে এবং দোকানঘর ভাড়া দিয়ে টাকা আয় করছেন।
মাদ্রাসার পাশের গোসাইবাড়ি বাজারের চা বিক্রেতা মতিউর রহমান ও ফটিক মিয়া জানান, সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা তোলা হয়নি। জাতীয় কোনও দিবস পালন করা হয় না সেখানে। মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নেই।
জায়গা দানকারী নিপুচা আকন্দের নাতি ফরহাদ হোসেন জানান, তার দাদা জায়গা দিয়েছিলেন নিউ স্কিম জুনিয়র মাদ্রাসা হিসেবে। শর্ত ছিল মাদ্রাসা বন্ধ হলে মালিকরা জায়গা ফিরে পানে। একটি চক্র ও মাদ্রাসার সুপার কোটি টাকার জায়গা দখল করতে নতুন নাম দিয়ে মাদ্রাসা চালাচ্ছেন ভাড়াটিয়া ছাত্রছাত্রী দিয়ে।
এ প্রসঙ্গে গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান জানান, জামায়াতপন্থী ইউনুস আলী মাদ্রাসাটি পরিচালনা করছেন বলে শুনেছেন। সেখানে জাতীয় দিবসের কোনও অনুষ্ঠান হয় না। এমনকি মাদ্রাসায় কোনও শিক্ষার্থীকে দেখা যায় না।
মাদ্রাসা সুপার ইউনুস আলী জানান, তিনি কোনও রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। ছাত্রছাত্রী না আসায় বিজয় দিবসে পতাকা উত্তোলন ও কোনও অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে এবার তারা মাদ্রাসার ৯ জন শিক্ষার্থী এবতেদায়ি চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, তিনি কয়েকমাস আগে মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেছেন। তখন সবকিছু ঠিক ছিল। এখন কোনও অসঙ্গতির অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা জানান, জাতীয় দিবসে পতাকা না ওঠানো এবং অনুষ্ঠান না করা অপরাধ। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








