এসপি পরিচয়ে পুলিশের কাছ থেকে বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সোহাগ মাহমুদ বাপ্পী ওরফে রনি (৩১) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বগুড়া সাইবার পুলিশ সোমবার রাতে তাকে ফরিদপুর সদরের রঘুনন্দনপুর থেকে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৭টি মোবাইল ফোন ও ১১টি সিম পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠিয়ে ৫ দিনের রিমাণ্ড চাওয়া হয়েছে।
বগুড়া সাইবার পুলিশের ইন্সপেক্টর এমরান মাহমুদ তুহিন জানান, মাহমুদ বাপ্পী ওরফে রনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ছোট পারুলিয়া গ্রামের সালাউদ্দিন মোল্লার ছেলে। রনি বর্তমানে ফরিদপুর সদরের রঘুনন্দনপুর গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় থাকে।
তিনি আরও জানান, রনি পুলিশ সদস্যদের নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সিম উত্তোলন করেন। এরপর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। প্রতারক রনি গত ২৮ অক্টোবর বগুড়া জেলার আলফা-১ (এসপি) পরিচয় দিয়ে পুলিশ লাইন্সের রিজার্ভ ইন্সপেক্টর (আরআই) জয়নাল আবেদীনকে ফোন দিয়ে থানার পাশের আকবরিয়া হোটেলের সামনে কাউকে পাঠাতে বলেন। আরআই তখন রবিউল ইসলাম নামে এক কনস্টেবলকে সেখানে পাঠান। প্রতারক রনি নিজেকে এসপি পরিচয় দিয়ে কনস্টেবল রবিউলকে রকেটের মাধ্যমে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। তার কথা অনুযায়ী রবিউলও তাকে রকেটের মাধ্যমে টাকা পাঠায়। পরে সে জানতে পারে প্রতারক রনি তাদের ধোঁকা দিয়ে টাকাগুলো হাতিয়ে নিয়েছে। এ ব্যাপারে কনস্টেবল রবিউল বগুড়া সদর থানায় ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৩(২)/২৪(২)/৩০(২) ধারায় মামলা করেন।
বগুড়া সাইবার পুলিশের ইন্সপেক্টর এমরান মাহমুদ তুহিন জানান, তার নেতৃত্বে একটি চৌকস দল নিরলস চেষ্টা চালিয়ে সোহাগ মাহমুদ বাপ্পী ওরফে রনিকে সনাক্ত করেন। সোমবার রাতে তাকে ফরিদপুর সদরের রঘুনন্দনপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে অনলাইন, বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক মামলা রয়েছে।







