কৃষকের কার্ড জালিয়াতি, আ.লীগ নেতাসহ ৩ জনের জেল

বগুড়া প্রতিনিধি
১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৫৪আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৫৭

সাজাপ্রাপ্ত তিন জন কৃষকের কার্ড সংগ্রহ করে সরকারি খাদ্য গুদামে নিজেদের ধান সরবরাহ করতে এসে আওয়ামী লীগ নেতাসহ তিন জন গ্রেফতার হয়েছেন। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে বগুড়ার কাহালুতে এই ঘটনা ঘটেছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কারাদণ্ড দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- কাহালু উপজেলার সাকোহালী গ্রামের মৃত মনতাজুর রহমানের ছেলে ও সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুদ্দোহা খান (৪৫), তার সহযোগী লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৪০) ও দলগাড়া গ্রামের মৃত আবদুর রশিদের ছেলে রবিউল ইসলাম (৩০)।

কাহালু থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, তিন ব্যবসায়ীকে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান জানান, সামছুদ্দোহা খান সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাছুদুর রহমান জানান, সামছুদ্দোহার কাছে ৫০টি ও তার সহযোগী ইসমাইল হোসেনের কাছে ৪-৫টি কৃষক কার্ড পাওয়া গেছে। সরকারি আদেশ অমান্য করায় দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় সামসুদ্দোহাকে এক মাসের ও ইসমাইলকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় খাদ্য গুদামের প্রাচীর টপকে পালানোর সময় চারটি কার্ডসহ রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে দুই মাসের জেল দেওয়া হয়।

ইউএনও মাছুদুর রহমান জানান, লটারিতে নাম ওঠা প্রকৃত কৃষক নির্ভয়ে খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারবেন। কোনও ফড়িয়া, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী প্রকৃত কৃষকের ধান সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানের খবর ছড়িয়ে পরার পর বিভিন্ন চাতাল থেকে খাদ্য গুদামের পথে আসা ধান বোঝাই ভ্যান নিয়ে বিক্রেতারা পালিয়ে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, তারা ধানের আদ্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। ওই ধান গুদামে নিয়ে গেলে ফেরত দেওয়া হয়। সে কারণে তারা ধান ব্যবসায়ীদের কাছে দুই থেকে তিন হাজার টাকায় কার্ড বিক্রি করে দিয়েছেন।

খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, কাহালু সদর খাদ্য গুদামে দুই হাজার ২০০ মেট্রিক টন ধান কেনা হবে। লটারির মাধ্যমে দুই হাজার ৪০০ জন কৃষককে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে ২০০ জন কৃষককে অপেক্ষামাণ তালিকায় রাখা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ১৫৮ জন কৃষক ১৫৮ টন ধান সরবরাহ করেছেন। বুধবার সকাল ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা সামছুদ্দোহা খান ও তার সহযোগী ইসমাইল হোসেন দুই টন ধান খাদ্য গুদামে নিয়ে যান। তারা লটারিতে নির্বাচিত দুজন কৃষকের নামে ধান সরবরাহের চেষ্টা করেন। গোপনে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুদুর রহমান পুলিশ নিয়ে খাদ্য গুদামে অভিযান চালান।

/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম