ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বগুড়া শহীদ খোকন পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুতা পায়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। সেখান থেকে তাদেরকে নামতে বলায় তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। বুধবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনায় একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, হামলার সঙ্গে জড়িত থাকায় ছাত্রদলের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, আহত কনস্টেবল পারভেজকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। ওই হামলার সময় এক কনস্টেবলের হাতে থাকা রাইফেলের ট্রিগার হারিয়ে যায়। এই ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান জানান, তাদের কোনও নেতাকর্মী জুতা পায়ে শহীদ মিনারে ওঠেনি। তারা কোনও পুলিশকে মারধরও করেননি। শুধু সামান্য বাকবিতন্ডা হয়েছিল। হয়রানি করতে তাদের মিথ্যা দোষারোপ করা হচ্ছে।
ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহরে নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা শহীদ খোকন পার্কে সমবেত হন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এলে তারা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যাবেন। এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মী জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠে স্লোগান দিতে থাকেন। ওই এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী ভেতরে ঢুকে জুতা পায়ে থাকা নেতাকর্মীদের শহীদ মিনার থেকে নামতে অনুরোধ করেন। এতে নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্ল্যাকার্ড বহনের লাঠি দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। লাঠির আঘাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, এএসআই আশরাফুল আলম ও কনস্টেবল পারভেজসহ ৫ জন আহত হন। হামলার পরপরই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রাচীর ডিঙিয়ে পালিয়ে যান।







