করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কৃষি শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে ছুটছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে—নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামে গ্রামে বোরো ধান পাকা শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি ধান কাটা শুরু হবে। এ সময় এই এলাকায় তেমন কোনও কাজ থাকে না। অলস দিন কাটে কৃষি শ্রমিকদের। এরপর করোনাভাইরাসের কারণে ঘর থেকে বের হতে না পেরে হাতের জমানো টাকাও শেষ। ধার-দেনা করে সংসার চালাতে গিয়ে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। তাই লকডাউনের কারণে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তার কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে কাজের সন্ধানে ছুটছেন কৃষি শ্রমিকরা।
ইতোমধ্যেই কিছু এলাকায় আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। ওই অঞ্চলের ধান চাষিরা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খোঁজ করে কৃষি শ্রমিক নিয়ে যান। তাই প্রতিদিন সহস্রাধিক কৃষি শ্রমিক নিজ নিজ এলাকা থেকে ট্রাক, ভটভটি ভাড়া করে কাজের সন্ধানে ছুটছে ওইসব অঞ্চলে। গত এক সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক পাড়ি দিয়েছেন ওইসব জেলায়।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলার ছাতারী গ্রামের কৃষি শ্রমিক সম্রাট আলী, রেজাউল করিম, মখলেসুর রহমান, রহমত আলী, আলামিন হোসেন, আলতাফ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন কৃষি শ্রমিক জানান, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তার কাছে অনুমতি নিয়ে নাটোর জেলার সিংগা এলাকায় ধান কাটার কাজে যাবেন।
তারা বলেন, এখন আমাদের এলাকায় কাজ নেই। এছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। এর মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা ধান কাটতে যাবো। তাই আমাদের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রশাসনকে বলে দিয়েছেন। আমরা অনুমতি নিতে এসেছি। কালকে একসঙ্গে ভটভটি ভাড়া করে প্রায় ৪০ জনের একটি দল ওই এলাকায় যাবো। ধান কাটা-মাড়াই শেষ হলে আবার গ্রামে ফিরে আসবো।
বিগত বছরগুলোতে এ সময় শ্রমিকরা ট্রেন ও বাসের ছাদে যাতায়াত করতেন বেশি। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের কারণে কোনও যানবাহন চলাচল না করায়, নিজেরাই ছোট ছোট গাড়ি ভাড়া করে ধান কাটার সন্ধানে যাচ্ছেন।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, 'ইতোমধ্যে আমার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে থেকে প্রায় দুই হাজার কৃষি শ্রমিক অনুমতি নিয়েছেন। অনুমতি নিয়ে অনেকেই একসঙ্গে ২০-৪০ জনের দল করে গাড়ি ভাড়া করে চলে গেছেন ধান কাটতে।'
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, 'ধান কাটার শ্রমিকদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।' শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'আপনাদের সাবধানে থেকে কাজ করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ঘনঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার চেষ্টা করতে হবে। বেশি করে পানি পান করতে হবে।’








