করোনার কারণে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সন্ন্যাসতলী ঘুড়ির মেলা বন্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠের শেষ শুক্রবার এ মেলাটি বসে ক্ষেতলালের মামুদপুর ইউনিয়নের তুলশীগঙ্গা নদীর পশ্চিম পাড়ে মন্দির সংলগ্ন জমিতে। সে হিসাবে আজ শুক্রবার (১২ জুন) মেলাটি হওয়ার কথা ছিল। প্রায় ২০০ বছর পর এবারই প্রথম মেলাটি বন্ধ রয়েছে। মেলা উপলক্ষে মেয়ের জামাইসহ স্বজনদের অ্যাপায়নের ধুম পড়ে যায় আশপাশের প্রায় ৪০ গ্রামে।
স্থানীয়দের মতে, এটি ২০০ বছরের পুরাতন মেলা। মন্দিরে সন্ন্যাসী পূজা পালনের মধ্য দিয়ে এ মেলা শুরু। মেলাকে ঘিরে আশপাশের প্রায় ৪০টি গ্রামে জামাইসহ স্বজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। মেলায় রকমারি মিঠাই, সংসারের যাবতীয় জিনিসপত্রের দোকানসহ কসমেটিক্স, মাটির হাঁড়ি-পাতিল, মাছ ধরার নানা সামগ্রী এবং বিনোদনের জন্য বসানো হয় নাগর দোলা ও চরকি। মেলার মূল আকর্ষণ হচ্ছে রঙ-বেরঙয়ের ঘুড়ি। ঐতিহ্যবাহী সন্ন্যাসতলীর ঘুড়ির মেলাকে ঘিরে এর তিন কিলোমিটার জুড়ে স্থানীয় বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়েও রকমারি জিনিস-পত্রের দোকান বসতো।
কিন্তু করোনার কারণে এবার সবই ভেস্তে গেছে। মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান শামিম জানান, প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠের শেষ শুক্রবার ঘুড়ির মেলা বসে। একদিনের এ মেলায় নারী-পুরুষের ঢল নামে। মেলাটি বহুকালের হলেও করোনার কারণে মেলা এবার বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।
ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান বলেন, ‘করোনার কারণে এবার মেলা বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। কারণ মেলায় যে পরিমাণ মানুষের আনাগোনা হয় তাতে এলাকার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। সেই দিকটি বিবেচনা করে সবার মঙ্গলের স্বার্থেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’








