বগুড়া, রাজশাহী, ঝিনাইদহ ও পঞ্চগড় জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া ও রাজশাহীতে দুই জন করে এবং ঝিনাইদহ ও পঞ্চগড়ে একজন করে রয়েছেন। আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
বগুড়া
বগুড়ায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের করোনা ইউনিটে তাদের মৃত্যু হয়। শনিবার (১৩ জুন) সকালে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিক আমিন কাজল এ তথ্য জানান। এ নিয়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে জেলায় মোট ১৮ জনের মৃত্যু হলো।
ডা. শফিক জানান, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল দেউলী এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী রাব্বী (৪৫) করোনা উপসর্গ নিয়ে শুক্রবার (১২ জুন) রাত ৯টার দিকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যান। এছাড়া শহরের কলোনি এলাকার বাসিন্দা ও সবুজ মেডিক্যাল স্টোরের ম্যানেজার শামীম আহম্মেদ ভুলু (৪৫) করোনা উপসর্গ নিয়ে একই হাসপাতালের আইসোলেশনে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মারা যান। তাদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বগুড়া শাখার পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃতদেহ দু’টির দাফন করা হয়েছে বলে জানান সংগঠনটির বগুড়া শাখার অর্গানাইজার প্রকৌশলী মিজানুর রহমান।
রাজশাহী
করোনা উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দুই জন রোগী মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তিরা হলেন—নওগাঁ সদরের সুপারিপট্টি এলাকার সিরাজ উদ্দিন (৫৫) ও বদলগাছী উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আব্দুল গাফফার (২০)। শনিবার (১৩ জুন) হাসপাতালটির উপপরিচালক ডা. সাইফুল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মৃত দুই জনেরই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করে ফলাফল জানানো হবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের দাফন করতে বলা হয়েছে।
ডা. সাইফুল আরও জানান, সিরাজ উদ্দিন শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর আড়াইটায় জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। সেখানকার চিকিৎসক তাকে করোনা সন্দেহে নগরীর খ্রিষ্টিয়ান মিশন হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে এদিন বিকাল ৪টায় রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আনা হয়। সেখানে শনিবার (১৩ জুন) ভোরে তিনি মারা যান। সিরাজ পেশায় একজন মুদি দোকানি ছিলেন।
অন্যদিকে শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আব্দুল গাফফার চিকিৎসাধীন অবস্থায় রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে মারা যান। এর আগে এ দিন দুপুর ২টায় তিনি জ্বর ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এলে চিকিৎসকরা তাকেও করোনা সন্দেহে নগরীর খ্রিষ্টিয়ান মিশন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। এখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে এদিন বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আবারও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে পাঠানো হয়। পরে সেখানেই তিনি মারা যান। আব্দুল গাফফার ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন।
এদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ল্যাব ইনচার্জ ডা. সাবেরা গুলনাহার জানান, শনিবার (১৩ জুন) কলেজের করোনা পরীক্ষা ল্যাবে মোট ৬১ জনের মধ্যে তিন জনের নমুনায় পজিটিভ রিপোর্ট ধরা পড়েছে। এদের মধ্যে একজন রাজশাহী নগরীর উপশহর আবাসিক এলাকার মাহবুবুর রহমান (৬৫) এবং অপর দুই জন পাবনার বাসিন্দা।
ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কুল্ল্যাপাড়া গ্রামে করোনার উপসর্গ নিয়ে ফয়েজ উদ্দিন (৫০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১২টার দিকে তিনি মারা যান। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সুলতান আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফয়েজ উদ্দিন কুল্ল্যাপাড়া গ্রামের হেদায়েত মোল্লার ছেলে। তিন দিন আগে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকা থেকে কালীগঞ্জের নিজ বাড়িতে আসেন তিনি।
নিহতের ভাই মনির হোসেন জানান, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে অ্যাজমায় ভুগছিলেন। শ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা ছিল। কিছুদিন আগে তিনি জ্বরেও আক্রান্ত হন। তিনি ঢাকার ন্যাশনাল ব্যাংক দিলকুশা করপোরেট শাখায় কর্মরত ছিলেন। এসব উপসর্গ দেখা দিলে তিনি কয়েকদিন আগে বাড়িতে এসে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। শুক্রবার সকালে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনাও সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ রাত ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সূবর্ণা রানী সাহা জানান, শরীরে করোনার উপসর্গ থাকায় শুক্রবার তার নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছিল। রিপোর্ট এলে জানা যাবে তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন কিনা।
পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সর্দি, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে শনিবার (১৩ জুন) তিনি মারা যান। সিফাত হোসেন আদম (২২) নামে ওই যুবকের বাড়ি পঞ্চগড় জেলা শহরের রাজনগর এলাকায়। সে ওই এলাকার বেনজীর হোসেনের ছেলে। এ নিয়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো তিন জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ওই যুবকের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে বাড়িতে রেখেই পরিবারের লোকজন কেবল তার রিপোর্টটি নিয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেখান। চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু তারা বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। শনিবার সকালে শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে গেলে তিনি মারা যান।
এর আগে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক কিশোরী, বোদায় এক যুবক ও তেঁতুলিয়া এক নারী করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। তাদের মধ্যে বোদা ও দেবীগঞ্জে দুই জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসে। তেঁতুলিয়ায় মারা যাওয়া ওই নারীর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি।








