করোনোকালে দ্বিতীয় শিফট চালু এবং শিক্ষকদের অতিরিক্ত সম্মানীর নামে প্রাথমিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) এর পাবনার কর্মকর্তারা প্রায় দেড় কোটি টাকার ভুয়া বিল তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানকার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অভিযোগ, প্রভাবশালীদের দ্বারা হুমকি দিয়ে আপত্তি জানানো বিলগুলো পাশ করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে অভিযুক্ত সুপারিনটেনডেন্ট দাবি করেছেন, সরকারি নিয়ম মেনেই এই বিল জমা দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগে জানা যায়, করোনার কারণে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গত ২৫ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পাবনা পিটিআই কর্তৃপক্ষ তাদের মূল বেতনের অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ এবং প্রতিজন প্রশিক্ষণার্থীর মাসিক ৩ হাজার টাকা হিসেবে মোট এক কোটি ২৮ লাখ ৪৪ হাজার ৪০৬ টাকার গায়েবি বিল পাশ করার লক্ষ্যে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা দেয়।
আরও জানা যায়, ১৭ জুন ৬০ নম্বর বিলে ৮ লাখ ৮ হাজার ৪১০ টাকা, ১৮ জুন ৬১ নম্বর বিলে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯৬ টাকা, ১৮ জুন ৬৫ নম্বর বিলে ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, ৬৪ নম্বর বিলে ৩৫ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৬ নম্বর বিলে ৪০ লাখ ৪০ হাজার টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পাবনা পিটিআই কর্তৃপক্ষ। অথচ মার্চ মাসে ছুটি ঘোষণার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানে বাস্তবে কোনও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে শুধু মার্চ মাসের টাকা দাবি করা উচিত ছিল বলে পাবনা হিসাবরক্ষণ অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট মো. মুশফিকুর রহমান অভিমত ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, 'প্রশিক্ষণ না দিয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা অনৈতিক। তাই বিলগুলো ‘অবজেকশন’ দিয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে।'
তিনি আরও জানান, চলতি জুন ফাইনালি অন্তত ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ রকম প্রায় ৪০ কোটি টাকার বিল দাখিল করেছে। যার সবগুলো প্রশ্নবিদ্ধ বলে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের এই কর্মকর্তা মনে করেন।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই), পাবনার সুপারিনটেনডেন্ট সুভাষ কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'সরকারি প্রজ্ঞাপনেই তাদের প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখার কথা বলা আছে। করোনার সময় ক্লাস বা ট্রেনিং না নেওয়া হলেও অনলাইনে প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়েছে। আমরা তারই বিল জমা দিয়েছি।' তিনি বলেন, 'সারাদেশে এই প্রশিক্ষণের বিল জমা দেওয়া হয়েছে, আমরাও দিয়েছি।'
এ ব্যাপারে পাবনা জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট মুশফিকুর রহমান বলেন, 'আমরা বিলগুলোর আপত্তি দিয়েছি। কিন্তু পিটিআই কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে বিল পাশ করে দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে না নিলে বিপুল পরিমাণ সরকারি এই অর্থ আত্মসাৎ হয়ে যাবে।'








