সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের মূল প্রবেশ পথে ‘সোনালী ব্যাংক লিমিটেড’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা (প্রস্তাবিত) লেখা সম্বলিত একটি সাইনবোর্ড টানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা বলছে নতুন ভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে ব্যাংককের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংস্কৃতিমনা শিক্ষকরা বলছেন, মিলনায়তনের প্রধান ফটকে ব্যাংক স্থাপন করা হলে এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। এছাড়া যেহেতু প্রধান ফটকের পাশের খালি জায়গায় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নাটকের মহড়া ও কর্মশালা করে থাকে সেহেতু সেখানে ব্যাংক স্থাপন করা হলে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। অদূরদর্শিতার কারণে ধুঁকে ধুঁকে চলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে বলেও ধারণা করছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার বলেন, পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি না হওয়ায় বর্তমানে সাংস্কৃতি সংগঠনগুলো রাকসু ভবন থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু এখানকার কক্ষগুলো ছোট ছোট হওয়ায় আমরা নাটকের মহড়া, ওয়ার্কশপ, রিহার্সেলের জন্য অডিটোরিয়ামের প্রবেশ পথের সামনের খালি জায়গাটা ব্যবহার করি। বাংলাদেশ-ভারত নাট্যোৎসবের মতো বড় অনুষ্ঠানগুলোর প্রধান অথিতিদেরও ওই পথ দিয়ে ভেতরে নেওয়া হয়। অনেকে বলছেন এটা অস্থায়ী, আমরা মনে করি স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী যেভাবে হোক এখানে ব্যাংক স্থাপন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়ে পড়বে।
২০১৯ সালে ৩৪ বছর পূর্তি উৎসব পালন করে অনুশীলন নাট্যদল। সংগঠনটির কর্ণধার ও বিশিষ্ট নাট্যজন অধ্যাপক ময়ল ভৌমিক বলেন, পৃথিবীর সকল অডিটোরিয়ামেই মঞ্চের বিপরীত পাশে ঢোকার রাস্তা থাকে। এখানেও তাই। এখানে ব্যাংক স্থাপন একেবারেই অস্থায়ী একটা ব্যবস্থা বলে আমার ধারণা। আমি মনে করি এটি করোনাকালে চলতে পারে। কিন্তু করোনার পর যখন পড়ালেখা ও সাংস্কৃতি কর্মকাণ্ড পুরোদমে চালু হবে তখন আর রাখা ঠিক হবে না। স্থায়ীভাবে রাখা হলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই বিষয়টি মাথায় রাখবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী বলেন, নতুন ভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে ব্যাংকটির কার্যক্রম চলবে। তবে শুরু হতে সময় লাগবে। অডিটোরিয়ামে ব্যাংক স্থাপনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করতে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভি করেননি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে দুই উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া এবং উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানকে ফোন করে পাওয়া যায়নি।








