বগুড়ায় শ্বশুরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করায় জামাইসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শ্বশুর গোফফার শাহ (৬৫) পেশায় মসজিদের মুয়াজ্জেম। গত ৩১ আগস্ট রাতে তাকে সদর জেলার বুজরুকবাড়িয়া গ্রামের মসজিদ থেকে অপহরণ করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনায় জড়িত জামাই আবু সাঈদসহ তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সদর থানার ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতার তিন অপহরণকারী হলো, বগুড়ার কাহালু উপজেলার দেওগ্রাম দীঘিরপাড়া এলাকার মৃত রইচ উদ্দিনের ছেলে আবু সাঈদ (৩০), একই উপজেলার চকজগৎপুর এলাকার মৃত কমের উদ্দিনের ছেলে জিয়াউর রহমান (৩৮) ও জাঙ্গালপাড়ার আব্দুর রশিদের ছেলে হৃদয় প্রামাণিক (২২)।
পুলিশ জানায়, পারিবারিক বিষয় নিয়ে জামাই আবু সাঈদের সঙ্গে শ্বশুরের মতবিরোধ হয়। গত ৩১ আগস্ট রাতে গোফফার মসজিদের বাথরুমে যাবার সময় তাকে সাঈদ ও তার সহযোগীরা অপহরণ করে। এরপর শিবগঞ্জ উপজেলার চন্ডিহারা এলাকার একটি নির্জন ভাঙাঘরে বেঁধে রেখে মারধর করে। আসামি জিয়াউর রহমান ফোনে তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। অন্যথায় গোফফারকে হত্যার হুমকি দেয়।
এ ব্যাপারে গোফফারের ছেলে আলাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর থানায় চার জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত তিন থেকে চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর অপহরণকারীদের মুক্তিপণের টাকা দিতে রাজি হলে তাকে চন্ডিহারা এলাকায় যেতে বলা হয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে জনগণের সহযোগিতায় জিয়াউর রহমানকে গ্রেফতার করে।
জিয়াউর রহমান জানায়, গোফফারকে গণেশপুর এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে। পুলিশ সেখানে গিয়ে পলাতক আসামি হাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় গোফফারকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে জামাই সাঈদ ও হৃদয়কে গ্রেফতার করলেও হাফিজুরসহ তিন থেকে চার জন পালিয়ে যায়।
ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রেজাউল করিম জানান, গ্রেফতার তিন আসামিকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








