নওগাঁয় বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর তীরবর্তি ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলোকে রক্ষা করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরাও দিন-রাত পাহারা দিচ্ছেন বন্যা নিয়ন্ত্রল বাঁধগুলো। কোথাও কোনও সমস্যা দেখা দিলেই স্থানীয়দের সহায়তায় তা রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের শেষে দিকে বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলের কারণে নওগাঁর দুটি প্রধান নদীসহ ৭টি নদীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে পানি। বর্তমানে আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে আত্রাই নদী। নদী তীরবর্তী রসুলপুর গ্রামে
সিপেজের ফলে সৃষ্ট স্লোপ ধস হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে পানি উন্নয়নের বোর্ডের প্রকৌশলীসহ অন্যান্য কর্মচারীরা তা মেরামত করেন। ফলে নওগাঁ-আত্রাই মহাসড়কটি ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে যেমন রক্ষা পায় তেমনি ভাবে বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেলো অর্ধশতাধিক গ্রাম ও কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল।
পাউবোর সার্বিক সহায়তায় রক্ষা পায় আত্রাই নদীর দর্শন গ্রাম। আত্রাই নদীর বাম তীরে নাগর ভ্যালি প্রকল্পের অধীনস্থ পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংলগ্ন এ গ্রামটি। আত্রাই নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধির কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ দিয়ে গ্রামের ভেতর পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। বিষয়টি জানার পর পাউবোর কর্মচারী-কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ওভারটপিং নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে পাউবোর তত্ত্বাবধানে দেড় শতাধিক মানুষের চেষ্টায় গ্রামটিকে বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
এছাড়া কাশিয়াবাড়ি স্লইস গেট সংলগ্ন স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে বালির বস্তা দিয়ে মেরামত করা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাটি। এই রাস্তাটি যদি মেরামত করা না হতো তাহলে ভেঙে গিয়ে কাশিয়াবাড়ি, পতিসর, নওদুলীসহ শতাধিক গ্রাম, রাস্তা-ঘাট, ফসলের জমি ও হাজার হাজার পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে যেত।
দর্শন গ্রামের সুরুজ হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বেশির ভাগ লোকজনই কৃষি কাজ করে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি যে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনরা স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে গ্রামটিকে বন্যার ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছে। তাৎক্ষণিক ভাবে যদি পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনরা পদক্ষেপ না নিত তাহলে আমরা গ্রামবাসীরা পানির সঙ্গে ভেসে চলে যেতাম।’
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল বলেন, ‘আমরা সাধ্য মতো চেষ্টা করছি নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো মেরামত করতে। রাত-দিন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তা রক্ষা করার চেষ্টা করছি। এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে টহল জোরদার করার জন্য এলাকা ভাগ করে দিয়েছি। সেই অনুপাতে আমরা যার যার অংশের ঝূঁকিপূর্ণ অংশগুলো কঠোর নজরদারিতে রেখেছি। দিনে কিংবা রাতে বাঁধের কোথাও কোনও সমস্যা হলে স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’








