অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও প্রতারণা করে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য আনোয়ার হোসেন রানা ওরফে ক্যালা ও তার স্ত্রী আকিলা সরিফা সুলতানা খানম আঞ্জুয়ারাসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত ১ অক্টোবর রানার শাশুড়ি দেলওয়ারা বেগম সদর থানায় অভিযোগ দিলে সোমবার (৫ অক্টোবর) তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির এসব তথ্য জানান।
মমলার অপর তিন আসামি হলেন—সরিফ বিড়ি ফ্যাক্টরির ম্যানেজার কাম ক্যাশিয়ার নজরুল ইসলাম, সরিফ সিএনজি লিমিটেডের ম্যানেজার হাফিজার রহমান এবং দেলওয়ারা-সেখ শরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেটের ম্যানেজার ও রানার সহকারী তৌহিদুল ইসলাম।
বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ার মরহুম সেখ সরিফ উদ্দিনের স্ত্রী দেলওয়ারা বেগম মামলায় উল্লেখ করেন, তার শরীরিক অসুস্থতার কারণে গত পাঁচ বছর জামাই আনোয়ার হোসেন রানা ওরফে ক্যালা ও মেয়ে আকিলা সরিফা সুলতানা খানম আঞ্জুয়ারা তার বাড়িতে থাকেন। নিজের অসুস্থতা ও মেয়ে-জামাইয়ের প্রস্তাবে তাদের মৌখিকভাবে বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেন দেলওয়ারা বেগম। পরে আসামি নজরুল ইসলাম, হাফিজার রহমান ও তৌহিদুল ইসলাম পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতি, প্রতারণা ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়। তারা ধারালো অস্ত্রের মুখে স্ট্যাম্প, ব্যাংকের চেক, এফডিআর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেয়। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ২০১৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের এফডিআর ভেঙে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। এছাড়া ব্যবসা ও ব্যাংক থেকে আরও ৫০ কোটি টাকা উত্তোলনের পর আত্মসাৎ করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধান আসামি আনোয়ার হোসেন রানা আগ্নেয়াস্ত্র ধরে এসব ফাঁস না করতে নিষেধ করে। হত্যার হুমকি দেওয়ায় তিনি এতদিন গোপন রাখেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর আসামি জামাই আনোয়ার হোসেন রানা ও মেয়ে আঞ্জুয়ারা বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায়। মায়ের সঙ্গে প্রতারণা করায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর চার মেয়ে মাহবুবা সরিফা সুলতানা, নাদিরা সরিফা সুলতানা, কানিজ ফাতেমা ও তৌহিদা সরিফা সুলতানা পুলিশ সুপারের কাছে বোনজামাই রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। দেড় হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী আনোয়ার হোসেন রানা প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং আওয়ামী লীগের নাম ভেঙিয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলায় প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে তারা গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন।
আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন রানা দাবি করেন, ভায়রা ও শ্যালিকারা তার শাশুড়িকে জিম্মি করে থানায় মিথ্যা মামলা দিতে বাধ্য করেছেন।
ওসি হুমায়ুন কবির জানান, মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।








