বগুড়ার গাবতলী উপজেলা মৎস্য অফিসের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে অধিগ্রহণ ছাড়াও প্রায় এক একর জমি রেকর্ড এবং ৮০ বছরের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির খারিজ বাতিলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মৎস্য কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, ১৯৮২ সালে গাবতলী উপজেলা পরিষদের দক্ষিণপাশে গাবতলী ও গোড়দহ মৌজার বিভিন্ন দাগে তিন একর তিন শতাংশ জমি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল করে মৎস্য অধিদফতর। এরপর সীমানা প্রাচীর ও তারকাঁটা দিয়ে জমি ঘেরা হয়। ওই জমিতে গ্রামীণ মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার প্রকল্প গ্রহণ
করা হয়। কয়েকটি পুকুরও খনন করা হয়। তবে তারা অতিরিক্ত প্রায় এক একরের বেশি জমি রেকর্ড ও মাঠ খতিয়ান করে নেয়। কবলা দলিল মূলে বিভিন্ন দাগের ওই জমি গাবতলী পৌরসভার পাইকারপাড়ার নাজিম উদ্দিন পাইকার ও তার পরিবার গত ৮০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে খারিজ ও খাজনা পরিশোধ করে আসছেন তারা। এদিকে মৎস্য অধিদফতর ৫৬০/৫৬৩/৫৬৫ দাগের ওই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে দাবি ও খারিজ বাতিলের চেষ্টা শুরু করে। নাজিম উদ্দিন পাইকার গত ৫ জানুয়ারি বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর ৫৬৩ সাবেক দাগের সম্পত্তি সংক্রান্ত এলএ কেস নং-২১ জি/৮২ প্রকাশিত গেজেট পুনর্নিরীক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেন। আবেদনটি ৭৮ নম্বর ডাইরিভুক্ত হয়। এছাড়াও তিনি (নাজিম) গত ১৭ সেপ্টেম্বর বগুড়ার প্রথম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে তিন লাখ টাকা ডিক্রি পাওয়ার দাবিতে ২৫২ বাটোয়ারা মামলা করেন। মামলায় বিবাদী করা হয় জেলা প্রশাসক, গাবতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), মৎস্য কর্মকর্তা, ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তাসহ ১০ জনকে।
নাজিম উদ্দিন পাইকার জানান, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ১৯৪০ সাল থেকে খারিজ ও রেকর্ডমূলে ভোগ দখল করে আসছেন ওই জমি। নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, গাবতলী উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের অধিগ্রহণ ও হুকুম দখলে জমি বেহাত হচ্ছে। স্থানীয় রাসেল, মিলটন, জাকিরুল ইসলাম, একরামুল ইসলাম, আব্দুল হান্নান প্রমুখ প্রভাবশালী ব্যক্তি জমি দখল করে তা বিক্রি করছেন। ৫৬১ দাগের জমি বিক্রি করা হয়েছে। সেখানে নির্মাণ করা পাকা ভবনে অফিস করা হয়েছে। কেউ কেউ জমি দখল করে তা নিজেদের নামে রেকর্ড করার পর সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। এ দখলের ব্যাপারে মৎস্য অধিদফতর চুপ থাকলেও তারা তার (নাজিম) পৈতৃক জমির খারিজ বাতিলের চেষ্টা করছেন।
দখল প্রসঙ্গে আব্দুল হান্নান ও জাকিরুল ইসলাম জানান, তাদের বাড়িঘর মৎস্য অধিদফতরের হুকুম দখলকৃত দাগের নয়।
এ প্রসঙ্গে গাবতলী উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের অতিরিক্ত দায়িত্বরত কর্মকর্তা আরিফ আহমদ জানান, অধিগ্রহণের চেয়ে কিছু জমি মৎস্য অধিদফতরের নামে রেকর্ড হয়েছে; তা সংশোধন করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তাদের জমির সীমানার মধ্য নাজিম উদ্দিনরা বাড়ি নির্মাণ করেছে। দ্রুত জায়গা মাপা হবে। কেউ দখল করে থাকলে প্রশাসনের সহযোগিতায় উচ্ছেদ করা হবে।








