ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বর্ধিত ভাড়ার ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় নগর ভবনের সামনে সমবেত অটোরিকশা চালকদের উদ্দেশে এই ঘোষণা দেন মেয়র।
রাসিক মেয়র লিটন বলেন, ‘রাজশাহী মহানগরীতে অটোরিকশা চলাচলে বিআরটিএ’র অনুমোদন ছিল না। প্রথম মেয়াদে মেয়র থাকাকালে ২০০৯ সালের দিকে আমি মেয়র হিসেবে কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীতে কর্মসংস্থান তৈরি করার লক্ষ্যে আপনাদের কর্মের কথা এবং যাত্রীদের সহজে চলাচলের কথা ভেবে আমরা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। অটোরিকশা ও চার্জার রিকশা চলাচলে সিটি করপোরেশন থেকে লাইসেন্স দিয়েছিলাম। সড়কে শৃঙ্খলা আনা ও যানজট নিরসনে রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্তৃক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি মেয়র হিসেবে আপনাদের লাইসেন্স প্রদান করেছি, আপনারা সড়কে শৃঙ্খলা আনার জন্য আমাদের সহযোগিতা করুন।’
এদিকে হঠাৎ অঘোষিত অটোরিকশা ধর্মঘটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বাধ্য হয়ে রবিবার দুপুর তাদের রিকশায় চলাচল করতে হয়েছে। আর এই সুযোগে রিকশাচালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন।
রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরীর লক্ষ্মীপুর থেকে আলুপট্টিতে যাওয়ার জন্য অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন যাত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান। কিন্তু জানতেন না যে, অটোরিকশা চালকরা ধর্মঘটে ডাক দিয়েছেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ৫০ টাকা ভাড়া মিটিয়ে তিনি আলুপট্টির উদ্দেশে রিকশায় রওয়ানা দিলেন। নোমান বলেন, ‘দুই একদিন পর পর অটোরিকশা চালকদের কী হয়? তারা এভাবে হঠাৎ যানবাহন বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের মতো জনসাধারণের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আর এই সুযোগে রিকশাচালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।’ পুরো নগরী ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোনো অটোরিকশা চলছে না। রিকশার রাজত্ব পুরো নগরীতে। সেই সঙ্গে রিকশাচালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায় করছেন।
উল্লেখ্য, সড়কে শৃঙ্খলা আনা ও যানজন নিরসনে বর্তমানে মহানগরীতে দুই রঙের অটোরিকশা দুই শিফটে চলাচল বাস্তবায়ন করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। রাজশাহী সিটি কপোরশনের অনুমোদন ছাড়াই গত ১ জানুয়ারি থেকে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেয় রাজশাহী মহানগর ইজিবাইক মালিক শ্রমিক সমবায় সমিতি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জানুয়াটি ইজিবাইক মালিক শ্রমিক সমবায় সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া স্থগিতের ঘোষণা দেন রাসিক মেয়র। একই সঙ্গে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সবার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় সিটি করপোরেশন।









