রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট করায় ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা আজিবর রহমানকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত আজিবরকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আড়ানীর মোমিনপুর ইদগা মাঠের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, মেয়র মুক্তার আলীসহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জনের একটি দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
এই ঘটনায় আড়ানি পৌর মেয়র মুক্তার আলীকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে আজিবর রহমানের স্ত্রী নাজমা রহমান বাদী হয়ে মঙ্গলবার বিকালে বাঘা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আহত আজিবরের ছোট ভাই শিপন আলী জানান, বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর যুবলীগের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আজিবর রহমান মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়ি রুস্তুমপুর ভারতীপাড়া থেকে আড়ানী পৌর বাজারের দিকে ভ্যানে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি মোমিনপুর ঈদগা মাঠের সামনে পৌঁছালে মেয়র মুক্তার আলীর নির্দেশে রাজন, অংকুরসহ ১০-১৫ জনের একটি দল হাতুড়ি ও লোহার রড় নিয়ে আজিবর রহমানের ওপর হামলা চালায়। আক্রমণে আজিবর মারাত্মক জখম হন এবং তার ডান পা ভেঙে যায়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হাতুড়ির আঘাতে আজিবরের ডান পা ভেঙে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরতর জখম হয়েছে।
আহত আজিবর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের পর থেকেই আমাকে মেয়র মুক্তারসহ তার লোকজন হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনাটি আমি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবগত করেছিলাম। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। তারা আমার ওপর হামলা করে ডান পা ভেঙে দিলো।’
আড়ানী পৌরসভার মেয়র মুক্তার আলী বলেন, ‘আমার কোনও লোক কাউকে মারধর করেনি। তারা নিজেরাই মারপিট করে আমাদের লোকজনের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।’
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, নৌকার ভোট করায় হামলাকারীরা সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আড়ানী বাজারের গনেশের মোবাইল ফোনের দোকান থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের ৪টি মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে গেছে। এছাড়া হাফিজুল ইসলামের দর্জির দোকান থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা মূল্যের ৬টি কোর্ট জোরপূর্বক নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনে মুক্তার আলী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীকের শহীদুজ্জামান শাহীদকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর থেকে নৌকার পক্ষে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত পরাজিত প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদ।
আড়ানী পৌরসভার মেয়র মুক্তার আলী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মনোনীত পরাজিত প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদ তার লোকজন দিয়ে অভিযোগ করাচ্ছেন। এভাবে আমার সুনাম নষ্ট করার চক্রান্ত হচ্ছে।’









