বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ চত্বরে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কলেজে আধিপত্য বিস্তার, ছাত্রাবাস নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে যাওয়া নিয়ে শুক্রবার (২৬ মার্চ) সকালে এ ঘটনায় ঘটে। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার রায় এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগ কলেজ শাখার সাবেক কর্মী আরিফের বাড়ি কলেজসংলগ্ন কামারগাড়ি এলাকায়। মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের অপর কর্মী আল ইমরান ওই এলাকার ছাত্রবাসে থাকেন। ছাত্রাবাসে থাকার সুবাদে নেতাকর্মীরা ইমরানকে অনুসরণ করেন। কলেজের আশপাশের বিভিন্ন ছাত্রাবাসে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইমরানের সঙ্গে থাকায় আরিফ ক্ষুব্ধ হন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সরকারি আজিজুল হক কলেজে মহান স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে উপস্থিতি বাড়াতে ইমরান তার সমর্থকদের নিয়ে বের হওয়ার প্রস্তুতি নেন। এ সময় আরিফ ওইসব নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন আরিফ ও ইমরান গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ড শুরু হয়। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বগুড়া স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের হাজির করা নিয়ে শুক্রবার সকালে কলেজ চত্বরে সাবেক ছাত্র আরিফ ও বর্তমান ছাত্র ইমরান গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় সামান্য আহত আরিফ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। কলেজ চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ছাত্রলীগের কর্মীরা জানান, ১১ মার্চ রাতে শহরের সাতমাথায় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) আবদুর রউফ গ্রুপের হামলায় জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক তাকবির ইসলাম খান নিহত হন। এ ঘটনায় রউফ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। রউফের সহযোগী আল-আমিন (২৪) গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঘটনার পর থেকে রউফ ও অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। কলেজে আরিফ ও ইমরান বহিষ্কৃত রউফের বিপক্ষের গ্রুপ। কিন্তু রউফ বহিষ্কার হওয়ার পর কলেজে আধিপত্য বিস্তার ও আশপাশের ছাত্রাবাসের নিয়ন্ত্রণ নিতে একসঙ্গে থাকা আরিফ ও ইমরানের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তাদের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শুক্রবার সকালে ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে ইমরানের লোকজনকে আরিফ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার রায় জানান, এ ঘটনার সঙ্গে তাকবির হত্যার কোনও সম্পর্ক নেই।








