রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একদিনে আরও ১৫ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে পাঁচ জন করোনায় এবং দুই জন করোনামুক্ত হয়ে পরবর্তী স্বাস্থ্য জটিলতায় মারা যান। এছাড়া শ্বাসকষ্টসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান আরও আট জন। বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার (১৬ জুলাই) সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে জুলাই মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত রামেকের করোনা ইউনিটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৮২ জনে।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ১০ জনের বাড়ি রাজশাহী জেলায়। বাকিদের মধ্যে নাটোরের দুই, নওগাঁ-পাবনা ও মেহেরপুরের একজন করে রোগী ছিলেন।
মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১১ জন পুরুষ এবং চার জন নারী। এদের মধ্যে সাত জনের বয়স ৬১ বছরের ওপরে। এছাড়াও ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দুই জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে একজন রোগী রয়েছেন।
হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৬১ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬২ জন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ৪৫৪টি বেডের বিপরীতে ভর্তি আছেন ৪৯৮ জন। আইসিইউতে ভর্তি আছেন ২০ জন।
করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৪৯৮ জনের মধ্যে ২৪২ জনের করোনা পজিটিভ। উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ২০০ জন। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও করোনামুক্ত হয়েও পরবর্তী স্বাস্থ্য জটিলতায় চিকিৎসাধীন আছেন ৫৬ জন।
এদিকে রাজশাহীতে ফের সংক্রমণ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে দুটি ল্যাবে রাজশাহী জেলার ৪১৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৪৫ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। যা আগের দিনের চেয়ে ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে করোনা শনাক্তের হার ৩৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগের দিন ছিল ২৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এর আগে, গত মঙ্গলবার তা ছিল ৩৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ, গত সোমবার সংক্রমণের হার ৩৩ দশমিক ৬৯, গত রবিবার ছিল ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং গত শনিবার সংক্রমণের হার ছিল ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, বৃহস্পতিবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পৃথক দুটি ল্যাবে দুই জেলার ৫৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ এসেছে ১৭৫ জনের। রাজশাহী জেলা ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১৪৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩০ জনের রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে। শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ।









