ভোটের আর মাত্র দুই দিন বাকি। পাবনার সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের নির্বাচনি প্রচারণায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। নির্বাচনে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই নেতা, সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা। তবে, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আনাগোনায় নির্বাচনকে ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, সুজানগর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন দুলাই। ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম শাজাহান। আসন্ন নির্বাচনেও তিনি নৌকার প্রার্থী হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন চেয়ারম্যানের আপন ভাতিজা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইদুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যান থাকাকালে আমার চাচা দুর্নীতিতে জড়িয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের তদন্তে এসব দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। এতে পারিবারিকভাবে লজ্জায় পড়েছি। দুলাই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় আমার বাবা আজীবন কাজ করেছেন। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য রক্ষায় আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবিতে প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছি।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে নৌকার প্রার্থী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের এনে ভোটার ও আমার কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। নিজেরাই অপকর্ম করে আমার কর্মীদের হেনস্থা করার ষড়যন্ত্র করছেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছি।
তবে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম শাহজাহান বলেন, মনোনয়ন না পেয়ে সাইদুর রহমান দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নৌকার বিরোধিতা করছেন। দুলাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি, এখানে নৌকা ছাড়া অন্য কোনও প্রতীকের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে থেকেই সাইদ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। এখন মিথ্যা অভিযোগ করে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
চাচা-ভাতিজা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আহমদপুর ইউনিয়নেও। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন তারই আপন ভাতিজা হিরা মিয়া। দলীয় নেতাকর্মীরা বিদ্রোহী এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হিরা মিয়া চাচার বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ করছেন। চাচা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামাল আহমেদও ভাতিজার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন।
এদিকে উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচন করায় প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। প্রচারণা কেন্দ্র ভাঙচুর, গোলাগুলি ও হামলা-পাল্টা হামলায় গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। শেষ মুহূর্তে এ সহিংসতা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সাগরকান্দি, মানিকহাট, সাতবাড়িয়া, হাটখালি, ভায়না ইউনিয়নে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, প্রতিটি সংঘর্ষের ঘটনায় পক্ষগুলো পরস্পরকে দোষারোপ করছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বিষয়েও অভিযোগ পেয়েছি। তবে সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, আগামী ১১ নভেম্বর সুজানগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।









