আলু মজুত করে লোকসানে চাষিরা

দুলাল আবদুল্লাহ, রাজশাহী
১১ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৫৯আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৫৯

বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী নিত্য পণ্যের বাজারে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে আলুর দাম। রাজশাহীতে চাষিদের প্রত্যাশার সঙ্গে বাড়তি মজুতের মানসিকতায় বাজারে আলুর দাম নিয়ে তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। পরিবেশ ঘোলা করে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও এবার চোখে পড়েনি। তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। মজুত বেশি আর সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও কম। এতে অনেক চাষি উৎপাদন খরচও তুলতে পারেননি। এ কারণে আসন্ন মৌসুমে আলুর আবাদ নিয়ে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন বেশি হবে বলেই মনে করছে কৃষি বিভাগ।

আলু ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর আলু বিক্রি করে এখন পর্যন্ত হাতেগোনা কিছু ব্যবসায়ী লাভের মুখ দেখেছেন। বাকিরা এখন পর্যন্ত লোকসানের মধ্যে রয়েছেন। আর যে সময় প্রতিকেজি আলু ৯ থেকে ১০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে; সেসময় আলু বিক্রি করে কোল্ড স্টোরেজের খরচও তোলা সম্ভব হয়নি।

আলু মজুত করে লোকসানে চাষিরা ব্যবসায়ীরা আরও বলছেন, রাজশাহীতে অধিকাংশ আলুচাষি অন্যের জমি লিজ নিয়ে আবাদ করেন। যেখানে প্রতিকেজি আলুর উৎপাদন খরচ ১২ থেকে ১৫ টাকা। এরপর ক্লোল্ড স্টোরেজ খরচ প্রতিকেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা। এতে দেখা যাচ্ছে, আলু বিক্রির আগ পর্যন্ত প্রতিকেজির উৎপাদন খরচ ১৭ থেকে ২১ টাকা। অথচ বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে আলু বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ১৭ টাকা। প্রতিকেজিতে এখনও ২ থেকে ৩ টাকা লোকসান হচ্ছে। তবে দাম কম থাকলেও আলুর উৎপাদন তেমন কমবে না বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

পবা উপজেলার আলুচাষি শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি এ বছর ৭০ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছিলেন। যেখানে আড়াই হাজার বস্তার মতো আলু কোল্ড স্টোরেজে রেখেছেন। এর মধ্যে কিছু বিক্রি করেছেন। আর কিছু আছে। এবার আলু বিক্রি করে তার অনেক লোকসান হয়েছে। তবে এবারও তিনি গত বছরের মতোই আলুর আবাদ করবেন। কেননা অন্য কিছু আবাদ করার মতো সুযোগটা কম। সামনের বছর দাম যে এমন থাকবে এমনও তো না।

আলু মজুত করে লোকসানে চাষিরা রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু বাক্কার জানান, বর্তমান বাজারে আলু ২২ থেকে ২৪ টাকা কেজি বিক্রি হলেও পাইকারি দাম এতো না। পাইকারিতে এখন ১৭ থেকে ১৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদন খরচ বিক্রি মূল্যের চেয়ে বেশি। এ কারণে চাষিরা লোকসানের মধ্যে পড়েছেন।

তিনি আরও জানান, এক-দেড় মাসের মধ্যে আলু লাগানো প্রায় শেষ হয়ে যাবে। এখনও আলুর প্রায় ৪০ শতাংশ মজুত আছে। এর প্রায় ২০ শতাংশ বীজের আলু। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে আলু উঠতে শুরু করবে। ফলে এ বছর আলুর দাম আর বাড়বে না। তবে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এটা সত্য।

আলু মজুত করে লোকসানে চাষিরা রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, রাজশাহীতে গত বছর প্রায় ৩৬ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছিল। যেখানে প্রতি হেক্টরে ২৬ দশমিক ৬ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছিল। অর্থাৎ মোট ৯ লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন আলু রাজশাহীতে উৎপাদন হয়েছিল। এবারও আলুর আবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা এটিই ধরা হয়েছে। রাজশাহীতে ৩৬টি আলু সংরক্ষণাগার রয়েছে। যেখানে ধারণক্ষমতা ৫ লাখ মেট্রিক টন।

এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কেজেএম আব্দুল আউয়াল বলেন, রাজশাহীতে এবারও আলু উৎপাদনে যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা পূরণ হবে। কারণ এবার আলুর দাম মাঝে কিছুটা কম ছিল। সেসময় হয়তো চাষিরা লোকসান গুনেছেন। তবে এখন দাম আগের চেয়ে বেশি। বাজারে উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আছে।

 

/এএম/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম