পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লিঙ্গ কেটে বাড়ির পাশে ঘাস ক্ষেতে ফেলে আসা মা লিপি আক্তার মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করেছেন পরিবার ও পুলিশ। শুক্রবার (১২ নভেম্বর) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের চন্ডিদাসগাঁতি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর চাচা ওমর ফারুক বাদী হয়ে শনিবার (১৩ নভেম্বর) সদর থানায় লিপি খাতুনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামারখন্দ উপজেলার কোনাগাঁতি গ্রামের সিকিল হোসেনের ছেলে ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ২০০৬ সালে পারিবারিকভাবে সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের চন্ডিদাসগাঁতী গ্রামের হেলাল মন্ডলের মেয়ে লিপি খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের সাত বছর পর তাদের একটি মেয়ে সন্তান জন্ম হয়। মেয়ে তমা খাতুনের বর্তমানে বয়স ১১। তমার জন্মের পর লিপি খাতুনের মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। পরে শহরের এক চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন। কিছুদিন ভালো থাকলেও ফের সে সমস্যা দেখা দেয়। পরে রাজশাহী ও ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। দুই বছর ভালো থাকায় তাদের ঘরে জন্ম নেয় ছেলে সন্তান লিমন। ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখে-শান্তির সংসার ছিল তাদের। তবে একই সমস্যা দেখা দিলে চলতি বছরের জুন মাসে লিপি স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে যান। মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন তিনি। মানসিক সমস্যার কারণে বাবার বাড়ির লোকজন লিপিকে চোখে চোখে রাখতেন।
সবার অজান্তে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে লিপি খাতুন তার ছেলেকে নিয়ে বাড়ির পাশে একটি লিপিয়ার ঘাস ক্ষেতে যান। সেখানে শ্বাসরোধে ছেলেকে হত্যার পর লিঙ্গ কেটে দিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে পরিবারের লোকজন লিপির হাতে রক্ত দেখে ভয় পেয়ে যান। তাৎক্ষণিক বাড়ির পাশে পুকুর ও ঘাস ক্ষেতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে ক্ষেতে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে পুলিশ অসুস্থ অবস্থায় লিপি খাতুনকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
নিহতের বাবা ইমরুল কায়েস মোবাইলে ফোনে বলেন, ‘আমার স্ত্রী মানসিক রোগী। অনেক চিকিৎসা করলেও ভালো হয়নি।’ এ কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে কল কেটে দেন।
শিয়ালকোল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুহুল আমীন সজল বলেন, ‘প্রায় ৫/৬ বছর ধরে মাথার সমস্যার কারণে চিকিৎসাধীন ছিল। শুক্রবার রাতে নিজের সন্তানকে বাড়ির পাশে ঘাস ক্ষেতে নিয়ে হত্যা করেছে শুনেছি। কী কারণে করেছে সেটা এখনও জানা যায়নি।’
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের পর আজ বিকালে লাশ কামারখন্দ উপজেলার কোনাবাড়ীতে নিয়ে দাফন করা হয়েছে।
সদর থানার এসআই আব্দুল আলীম জানান, গৃহবধূ লিপি খাতুন মাঝেমধ্যেই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে সবার অজান্তে নিজের শিশু সন্তান লিমনকে গলাটিপে হত্যা করে। এরপর নিজের শরীরে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। লিপি খাতুনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’









