রাজশাহীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ককে পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি আই বাঁধ। দুই বছর আগে নির্মাণ করা এই বাঁধে গত কয়েকদিন ধরে চলছে ভাঙন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণে দুই বছর না যেতেই বাঁধটিতে ভাঙন শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ করে পবা উপজেলার হড়গ্রাম এলাকায় বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ঠিকাদারি কাজ পেয়েছিলেন সাবেক বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ওরফে হাজী রিপন। কাজ চলাকালে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা নদীতে পানি কমে গেছে। তবে আই বাঁধের পাশ দিয়ে পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে। স্রোতের তোড়ে আই বাঁধের পশ্চিম অংশের প্রায় ৪০ মিটার ধসে গেছে। বালু নির্মিত এই বাঁধের ওপরের অংশে থাকা জিওব্যাগ পানিতে নেমে গেছে। জিওব্যাগের নিচে থাকা কাপড়ের কার্পেটও ছিঁড়ে নেমে গেছে। এ কারণে বাঁধের বালু বের হয়ে গেছে। রোদে শুকিয়ে যাওয়া এসব বালু প্রতিনিয়ত নিচে নামছে। ফলে প্রতিদিন একটু একটু করে বাঁধ ভাঙছে। বাঁধের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ছোট-বড় ফাটল। বাঁধের পশ্চিমের নবগঙ্গা এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নবগঙ্গা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হক বলেন, নদীর তীরে সংরক্ষণ বাঁধ না থাকায় এই গ্রোয়েনের পশ্চিমে নবগঙ্গা এলাকাটি দেড় মাস ধরে ভাঙছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০-৪০ ফুট জায়গা ভেঙেছে। পদ্মার পানি প্রথমে নবগঙ্গার তীরে ধাক্কা খেয়ে এরপর গ্রোয়েনে আঘাত করে। এ কারণে গ্রোয়েনেও ভাঙন ধরেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম বলেন, নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ না থাকায় আই বাঁধের পশ্চিমে নবগঙ্গা এলাকাটি দেড় মাস ধরে ভাঙছে। দেড় মাসে অন্তত ৫০ ফুট জায়গা ভেঙে নদীতে নেমে গেছে। পদ্মার পানি প্রথমে নবগঙ্গার তীরে ধাক্কা খাচ্ছে। তারপর পানি এসে আই বাঁধে আঘাত করছে। এ কারণে আই বাঁধ ভাঙছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, হাইটেক পার্ককে রক্ষার জন্যই বাঁধটা করা হয়েছিল। বাঁধের কারণে পূর্বে বাগানপাড়া এবং হাইটেক পার্ক এলাকার এখনও কোনও ক্ষতি হচ্ছে না। তবে বাঁধটা ভেঙে গেলে ওই এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, বাঁধের ভাঙনের বিষয়টি আমরা জানি। চুক্তি অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে বাঁধের ক্ষতি হলে নির্মাণকারী ঠিকাদার নিজ খরচে সংস্কার করে দিতেন। কিন্তু এক বছর পার হয়ে প্রায় দুই বছর হয়ে যাওয়ায় ঠিকাদারকে দায়ী করা যাচ্ছে না। এখন এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধটি সংস্কারের জন্য একজন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে।









