রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ মো. আনোয়ার সাদাত মেয়রের দায়িত্ব পেয়েছেন। রবিবার (১২ ডিসেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ফারজানা মান্নান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করায় স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারা এবং শ্রেণিসভা কার্যবিধিমালা, ২০১২-এর বিধানমতে প্যানেল মেয়র-১ মো. আনোয়ার সাদাতকে সব ধরনের বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক পৌরসভা সচিবের সঙ্গে যৌথ স্বাক্ষরে পৌর তহবিল পরিচালনাসহ সব দৈনন্দিন কার্যাদি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলো।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হওয়ায় গত বুধবার আব্বাস আলীকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন সংক্রান্ত আব্বাস আলীর বিতর্কিত অডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তিনি গ্রেফতার হয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন।
এ জন্য পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা গ্রহণকারী সাধারণ নাগরিক পৌরসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা পৌরসভার স্বার্থের পরিপন্থী ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন নয় বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে পৌর মেয়রের পদ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা যুক্তিযুক্ত। তাই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
এর আগে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে করা বিতর্কিত বক্তব্যের অডিও ছড়িয়ে পড়লে আব্বাস আলী এলাকা ছাড়েন। তার বিরুদ্ধে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আবদুল মমিন নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।
১ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর একটি হোটেল থেকে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র্যাব। ওই মামলায় মেয়রকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। পরে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত বৃহস্পতিবার রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।








