বগুড়া-৭ আসনের জামায়াত-বিএনপির সমর্থিত সংসদ সদস্য (এমপি) রেজাউল করিম বাবলু ওরফে শওকত আলী গোলবাগীর সম্পদের হিসাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে তাকে চিঠি দিয়েছেন।
দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জানান, প্রাথমিক তদন্তে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে গত বুধবার রাতে তাকে ও তার পোষ্যদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ জন্য তিনি ২১ কর্মদিবস সময় পাবেন।
জানতে চাইলে বাবলু এ প্রসঙ্গে ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, তিনি দুদকের কোনও চিঠি পাননি।
দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয় সূত্র জানায়, গত মার্চে সংসদ সদস্য বাবলুকে তার সম্পদের প্রাথমিক তথ্য চেয়ে নোটিশ করা হয়। ১৪ মার্চের মধ্যে তাকে দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে হিসাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে তিনি আইনজীবী নিয়ে দুদক কার্যালয়ে হাজির হলেও রেকর্ডপত্র প্রস্তুত না থাকা ও করোনাভাইরাসের কথা বলে সময় প্রার্থনা করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি সম্পদের হিসাব দাখিল করেছিলেন।
জানা গেছে, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব জাতীয় নির্বাচনে খালেদা জিয়া ও তার মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাজা হওয়ায় খালেদা জিয়া গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। ওই আসনে গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোরশেদ মিল্টনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় নির্বাচন কমিশনার তার মনোনয়ন বাতিল করে দেন। ফলে ওই আসনে বিএনপি প্রার্থী-শূন্য হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ আসনটি জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ছেড়ে দেয়। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষে স্বতন্ত্র আদলে এক নেতার স্ত্রীকে প্রার্থী করা হয়। এ অবস্থায় গোলবাগী ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। বিএনপি ও জামায়াত তাদের প্রতিপক্ষ জাপা এবং স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ) প্রার্থীকে পরাজিত করতে বাবলুর ট্রাক মার্কায় সমর্থন দেয়। বিষয়টি অতি গোপনে ভোটারদের কানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। ফলে বাবলু বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপি-জামায়াতের এই সহযোগিতা অস্বীকার করেন।
অভিযোগ পাওয়া যায়, নির্বাচনি হলফনামায় বাবলু পেশা সাংবাদিকতা ও ব্যবসা দেখান। মাসিক আয় ৪১৭ টাকা দেখালেও দুই মাসের মাথায় ৩৪ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি কিনে আলোচনায় আসেন তিনি। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে সংসদ সদস্য বাবলু দাবি করেন, শপথ নিতে সংসদে যাওয়ার সুবিধার্থে বন্ধুরা তাকে গাড়িটি উপহার দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে অভিযোগ ওঠে, তার এলাকার অবৈধ ইটভাটার মালিকরা ঘুষ হিসেবে তাকে গাড়িটি কিনে দিয়েছিলেন। কিছু দিন পর একটি আগ্নেয়াস্ত্রের দোকানে পিস্তল হাতে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিলে তা ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। এ ছাড়া তিনি নির্বাচনি হলফনামায় প্রতারণার মামলার তথ্য গোপন করেন।
দুদক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, হিসাব দাখিলের পর অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক মামলা করা হবে।
আরও খবর: দুদকে হাজির হয়ে ৭ দিনের সময় নিলেন সংসদ সদস্য বাবলু
হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ, প্রমাণ হলে পদ হারাতে পারেন এমপি বাবলু









