নওগাঁ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় ব্যাখ্যা দিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন। এতে বলা হয়েছে, গবাদীপশু চোরাকারবারিরা বিএসএফের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায়, তখন বিএসএফ পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একজন চোরাকারবারির লাশ উদ্ধার করা হয়।
ব্যাখায় বলা হয়, শনিবার (৮ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে পান্নাপুর সীমান্ত চৌকির কমান্ডার আন্তর্জাতিক সীমার দুই অংশেই সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ করেন। সীমান্তের বেড়ার দুই পাশেই চোরাচালানকারীরা জড়ো হয়েছিল। সেখানে ভারতীয় চোরাচালানকারীরা গবাদীপশু সীমান্তের অপরপাশে পাচার করছিল। তখন কমান্ডার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। পরে তিনি দুই রাউন্ড গুলি ছুড়লে চোরাকারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল তল্লাশি করে দুইটি গবাদিপশু জব্দ করা হয় এবং একজন চোরাকারবারির বুলেটবিদ্ধ মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃতদেহটি বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার আলাদীপুরের কৃষ্ণসদা গ্রামের বুধু হোসেনের ছেলে মকবুল হোসেনের বলে জানা গেছে।
ওই ব্যাখায় আরও বলা হয়, এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবির কমান্ড্যান্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মৃতদেহ গ্রহণ করতে রাজি হননি। হাবিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মৃতদেহ পুলিশি প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
শনিবার ভোরে নওগাঁর সাপাহারের হাপানিয়া বিএসএফ গুলিতে নিহত হন মকবুল হোসেন ওরফে সালাউদ্দীন। তিনি গরু ব্যবসায়ী ছিলেন।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে একদল গরু ব্যবসায়ীর সঙ্গে কৃষ্ণস্বদা গ্রামের সালাউদ্দীন গরু আনতে ভারতে যান। শনিবার ভোরে গরু নিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার সময় ভারতের পান্নাপুর ৬৯ বিএসএফের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও সালউদ্দীন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। শনিবার বেলা ১১টার দিকে সীমান্তে লাশ পড়ে থাকতে দেখে বিজিবিকে জানায় স্থানীয়রা।
সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেকুর রহমান সরকার বলেন, হাপানিয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত হয়েছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় মামলা হলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।









