বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের ব্যক্তিগত মোবাইলফোন হারিয়ে যায়। এ সময় আরও বেশ কেয়কজন নেতাকর্মীও তাদের ফোন হারান। তবে এখন পর্যন্ত এসব ফোন উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবির শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত বাবার জানাজায় অংশ নেন। সময় তাকে স্বান্তনা দিতে ও দেখা করতে আসেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। সেই সঙ্গে জানাজা অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ। এর মাঝেই হারিয়ে যায় হুইপ স্বপনের ব্যবহৃত মোবাইলফোনটি। একই সময় দিনাজপুরের হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পৌর মেয়র সিরাজুল ইসলাম বুলু, পাঁচবিবির কুসুম্বা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী জিহাদ হোসেনসহ সাত জনের মোবাইলফোন হারিয়ে যায়।
হুইপ স্বপনের ব্যক্তিগত সহকারী এ বি এম ইমরুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের নিরাপত্তা ছিল এরপরেও জানাজার নামাজের কোনও এক সময় মোবাইলফোনটি হারিয়ে যায়। এখনও মোবাইল উদ্ধার হয়নি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন, হুইপের বাবার জানাজায় আমরা নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার মানুষ যোগ দিয়েছিলাম। শুনেছি জানাজার সময় হুইপের ব্যবহৃত মোবাইলফোন হারিয়েছে। এ সময় হাকিমপুর, ক্ষেতলাল পৌর মেয়রসহ আরও কয়েকজনের মোবাইল খোয়া গেছে। বলা যায় এগুলো চুরি হয়েছে। এতগুলো মোবাইল ফোন চুরি হলেও এখন পর্যন্ত সেগুলো উদ্ধার না হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। মোবাইলফোনগুলো উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
পাঁচবিবি থানার ওসি পলাশ চন্দ্র দেব বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত হুইপ স্যারের সঙ্গে ছিলাম। মোবাইলফোন হারিয়েছে এমন কথা স্যার আমাকে জানাননি। নেতাকর্মী ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি। আর জানাজায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল। এর মধ্যে নেতাকর্মীরা হুইপ স্যারের দেখা করছেন অনেকে ছবি তুলছেন। এর মাঝে হুইপ স্যারসহ আরও কয়েকজনের মোবাইলফোন হারিয়ে গেছে। পুলিশের এত নিরাপত্তার পরও কীভাবে এতগুলো মোবাইলফোন হারিয়ে গেল এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। আর তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইলফোন উদ্ধারের কাজ চলছে।
১৭ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় হুইপ স্বপনের বাবা রাজধানীর শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জয়পুরহাট সদরের নিজ গ্রাম ধলাহার ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।









