নওগাঁয় আরএন করপোরেশন নামে একটি ওষুধ কারখানায় অবৈধভাবে প্রেগন্যান্সি পরীক্ষার কিট তৈরি ও প্যাকেটজাত করে সারাদেশে বিক্রি করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে কারখানায় অভিযান চালিয়ে দুই জনকে কারাদণ্ড ও চার জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (১২ মার্চ) বিকালে শহরের ইঁদুরবটতলী হাজি মনসুর সড়ক এলাকার ওই কারখানায় অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাহমিদুল ইসলাম।
এ সময় আরএন করপোরেশনের ম্যানেজার মো. গুলজার হোসেন (৫০) ও কেয়ারটেকার মো. গোলাম মোস্তফা ওরফে মোহন মোল্লাকে (৪৩) এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের চার জন কর্মচারীকে এক হাজার করে চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই কারখানা থেকে প্রায় এক কোটি টাকার অবৈধ প্রেগন্যান্সি পরীক্ষার কিট ও উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত গুলজার হোসেন শহরের খাস নওগাঁ এলাকার মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে ও কেয়ারটেকার গোলাম মোস্তফা সদর উপজেলার চুনিয়াগাড়ী এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে। অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত কারখানার শ্রমিকরা হলেন মান্দা উপজেলার রামপুর এলাকার মো. মনির উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩৮), রাণীনগর উপজেলার বড়গাছা গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে তারেক আলী (৩৫), সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের মো. আতাউর রহমানের ছেলে মো. মিঠুন রানা (২৫) এবং চুনিয়াগাড়ী গ্রামের মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মনির উদ্দিন (৩২)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, আরএন করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রুবেল হোসেন এবং মো. নবীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির নিচতলায় অবৈধভাবে অননুমোদিত প্রেগন্যান্সি পরীক্ষার কিট প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করে সারাদেশে বিক্রি করে আসছিল।
এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে কারখানায় অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাহমিদুল ইসলাম এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. আশিস কুমার সরকারের উপস্থিতিতে দুই ঘণ্টা অভিযান চালানো হয়। এ সময় কারখানা থেকে এক কোটি টাকার অননুমোদিত প্রেগন্যান্সি পরীক্ষার কিট, কিট তৈরির উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। অভিযান শেষে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাহমিদুল ইসলাম বলেন, কারখানায় অভিযানের কথা জেনে রুবেল হোসেন এবং নবীর হোসেন পালিয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর মামলা করবে। আমরা দুই জনকে কারাদণ্ড ও চার জনকে জরিমানা করেছি।









