ধুনটে ঘুষ ছাড়া মিলছে না পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১১:২৮আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১১:৩৩

পল্লী বিদ্যুৎ

বগুড়ার ধুনটে ঘুষ ছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংযোগ মিলছে না। আবাসিক বা বাণিজ্যিক যে কোনও সংযোগ নিতে গেলেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ না দিলে আবেদনের ফাইল দিনের পর দিন টেবিলেই পড়ে থাকে। এতে সাধারণ গ্রাহককে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহ-জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) শামসুল হক ঘুষ বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ধুনট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে আবাসিক ও বাণিজ্যিকসহ বিভিন্ন সংযোগের জন্য আবেদন করেন ৭ হাজার ২৮ জন গ্রাহক। এর মধ্যে ২০১৪ সালের আবেদনে করা ৩০ ভাগ গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেও ২০১৫ সালের আবেদন করা ৫০ ভাগ গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন ঘুষ দিয়ে। আবেদনের ৩ মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এজিএম শামসুল হক ঘুষ না দেওয়ায় ২০১৪ সালের আবেদন ফেলে রেখেছেন। আর ঘুষ নিয়ে ২০১৫ সালের আবেদনে দ্রুত সংযোগ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা দীর্ঘ অপেক্ষা করেও বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী গ্রামের মোখলেছুর রহমান অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে আবেদন করে ১০০ টাকা সমীক্ষা ফি জমা দেন। এরপর এজিএম শামসুল হককে ৩ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় গত এক বছরেও বিদ্যুৎ সংযোগ মেলেনি। অথচ ধুনট সদরপাড়ার শাহীন নামের এক ব্যক্তি অগের দিন আবেদন করে পরের দিন বিদ্যুৎ পেয়েছেন বলে তিনি জানান।

কৈইগাঁতি গ্রামের শামিম ইসলাম লিটন বলেন, একটি সেচ পাম্পের সংযোগ পেতে তাকে এজিএম শামছুল হককে ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। বেলকুচি গ্রামের আব্দুল বারিক জানান, ২০১৪ সালে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করার পর এজিএমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ৩ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। বিদ্যুৎ কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে না পারায় এখন পর্যন্ত তিনি সংযোগ পাননি।

কাশিয়াহাটা গ্রামের আব্দুল মান্নান, হারুনর রশিদ ও সেলিম মিয়া বলেন, তারা আবাসিক সংযোগ পরিবর্তন করে শিল্প সংযোগের আবেদন করেন। দীর্ঘদিন অফিসে ঘোরাঘুরি করার পর ওই কর্মকর্তা তাদের কাছে ৬৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু তাদের কাজ না করেই তিনি বিভিন্ন অজুহাতে দেখিয়ে তালবাহানা করছেন। তারা এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও এক বছরে কোনও প্রতিকার পাননি।     

সরেজমিনে ধুনট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধুনট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম শামসুল হক প্রতিটি এলাকায় কিছু সংখ্যক দালাল নিয়োগ করে আবাসিক ও বাণিজ্যিকসহ বিভিন্ন সংযোগের জন্য মিটার প্রতি ২ থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ঘুষের টাকা না দিলে মিটার ও তার সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সময় পার করছেন মাসের পর মাস।

ভুক্তভোগিরা জানান, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ট্রান্সফরমার পরিবর্তন করতেও তাকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ বাণিজ্যের বিষয় নিয়ে সাধারণ গ্রাহকের সঙ্গে তার মাঝেমধ্যেই বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।

ধুনট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম শামসুল হক তার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিদ্যুতের মিটার ও তার না থাকায় সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করতেই পারে।’

বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শামস্উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে কেউ তাকে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

/এসটি/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান