গ্রামীণ প্রকৃতিতে হেমন্তের আমেজ। উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ চলনবিলে এখন কোথাও পানি, আবার কোথাও শুকনো। এমন পরিবেশে ভোর থেকেই খাবারের খোঁজে বিলে ভিড় করে বকসহ নানা প্রজাতির পাখি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফাঁদ পেতেছেন কিছু অসাধু পাখি শিকারি। তারা পাখি ধরার কিল্লা (ফাঁদ) স্থাপন করেছে বিলের বিভিন্ন পয়েন্টে, তাতে আটকা পড়ছে পাখি।
বিষয়টি জানতে পেরে ভোরের আলো ফোটার আগেই এসব এলাকায় অভিযানে নেমেছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা। মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) ভোরে গুরুদাস উপজেলার খুবজীপুর উত্তরপাড়া বিলে অভিযান চালিয়ে সাতটি কিল্লা ধ্বংস করেছেন তারা। এসময় শিকারিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ২০টি বক অবমুক্ত করেন তারা।
গুরুদাসপুর জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান জানান, মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে ওই মাঠে যায় পরিবেশকর্মীরা। এ সময় সাতটি ফাঁদ থেকে ২০টি বক পাখি উদ্ধার করা হয়। এসময় তাদের দেখে পালিয়ে যায় পাখি শিকারিরা। পরে বিশেষ কায়দায় খেঁজুরপাতা, কলাপাতা ও বাঁশ দিয়ে তৈরি সাতটি পাখি ধরার ফাঁদ (কিল্লা) ধ্বংস করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, গুরুদাসপুর জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান ও পরিবেশকর্মী মনির হোসেনসহ স্থানীয়রা।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, প্রতিদিনই পরিবেশকর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করলেও পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম কমছে না। তবে প্রশাসন সহযোগিতা করলে এই অভিযান আরও সফলভাবে সম্পন্ন করা যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রাবণী রায় জানান, পাখি শিকার বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিগগিরই অভিযান শুরু হবে।









