বগুড়ার আদমদীঘির ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর, মারপিট ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকালের ওই ঘটনায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার আহমেদসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পরিষদের সচিব কুদরত-ই-এলাহী রাতে আদমদীঘি থানায় এ মামলা করেন।
ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণে ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আয়েন উদ্দিন চয়নের ছেলে বাঁধনের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা তুষার আহমেদ গ্রুপের রাফির বিরোধ চলছে। এর জের ধরে বুধবার বিকালে বাঁধন ছুরিকাঘাত করলে রাফি আহত হন। রাফিকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে রাফিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর বাঁধন ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদে তার বাবা গ্রাম পুলিশ আয়েন উদ্দিন চয়নের কাছে লুকিয়ে আছে এমন খবর প্রচার হয়। বুধবার বিকালে বাঁধনকে শায়েস্তা করতে তুষার আহমেদ এবং তার ২৭/২৮ জন লোক ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদে যায়। সেখানে বাধা পেয়ে তুষার ও তার লোকজন গ্রাম পুলিশ আয়েন উদ্দিন ও পরিষদের সচিব কুদরত-ই-এলাহীকে লাঠিপেটা করেন।
অভিযোগ করা হয়েছে, এ সময় হামলাকারীরা পরিষদের আলমারি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয়রা আহত দুই জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সচিব বুধবার রাতেই ছাত্রলীগ নেতা তুষার আহমেদসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ১৩-১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তুষার আহমেদ ছাতিয়ানগ্রামের সুলতানের ছেলে।
আদমদীঘি থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, তুষার আহমেদকে ছাত্রলীগ নেতা বলা হলেও বর্তমানে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কোনও কমিটি নেই। মামলা রেকর্ড করে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আসামিরা আত্মগোপন করায় বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।









