রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ‘চিকিৎসা অবহেলায়’ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে মামলা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগরীর রাজপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহেদুল ইসলাম। এর আগে শনিবার (২২ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলার আবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম।
মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার শহীদ হবিবুর রহমান হলের তিনতলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে মাথায় আঘাত পান। তাকে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কোনও প্রকার চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে শাহরিয়ারকে আইসিইউতে না নিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠান চিকিৎসক। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা অনেক ডাকাডাকির পর চিকিৎসক ও নার্স আহত শাহরিয়ারের কাছে আসেন এবং নানা অজুহাতে চিকিৎসা দিতে কালক্ষেপণ করেন। ফলে বিনা চিকিৎসায় শাহরিয়ার মারা যান। চিকিৎসকরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা দিলে শাহরিয়ারের বাঁচার সম্ভাবনা ছিল বলে ছাত্রদের বিশ্বাস। শাহরিয়ারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী ও বন্ধুরা রামেক হাসপাতালে পৌঁছায় এবং কর্তব্যে অবহেলাজনিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। সে সময় ৮ নম্বর ওয়ার্ড ও তার আশপাশের ওয়ার্ডের চিকিৎসক, ইন্টার্ন, নার্স, আনসার ও তাদের ওপর হামলা চালান। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন।
পরিদর্শক মাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলার জন্য থানায় যে অভিযোগ দিয়েছিল, তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় ২২ অক্টোবর হাসপাতালে ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।’
গত বুধবার রাত ৮টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হবিবুর রহমান হলের তিনতলা থেকে পড়ে শাহরিয়ার নামে এক শিক্ষার্থী আহত হন। অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে রামেকে নিয়ে গেলে মৃত্যু হয়। এরপর চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের ওয়ার্ড ও পরিচালকের কক্ষের সামনে ভাঙচুর চালান। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন।








