বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কমলেশ মোহন্ত শানু (৫৭) মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালেল উপাধ্যক্ষ ডা. সুশান্ত কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কমলেশ মোহন্ত শানু শহরের বড়গোলা টিনপট্টি এলাকার মৃত অর্জুন কুমারের ছেলে। তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, ভাই ও বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
জানা গেছে, বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কমলেশ মোহন্ত শানু গত ১১ নভেম্বর রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে যান। একটি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদনের তথ্য ও ফুটেজ সংগ্রহ শেষে রাত পৌনে ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে শহরে ফিরছিলেন। হাসপাতালের সামনে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক পার হওয়ার পর খান্দার সড়কে উঠলে ঢাকাগামী একটি বাস তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে শানুর বাম পায়ের তিন স্থানে ভেঙে যায়। এছাড়া তিনি মাথা ও বুকে আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।
তাকে উদ্ধার করে ওই হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। এরপর থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকরা সাত সদস্যের বোর্ড বসিয়ে তাকে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
সাংবাদিক কমলেশ মোহন্ত শানুর মরদেহ বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত বগুড়া প্রেসক্লাব চত্বরে রাখা হয়। সেখানে জেলা প্রশাসন ও পুলিশসহ সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তার মরদেহ বগুড়া শহরের ফুলবাড়ি মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।









