চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থী। রবিবার দুপুর একটার দিকে বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু ওই বর্ষের ১২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৯ জন শিক্ষার্থীর ক্লাসে উপস্থিতি কম থাকায় তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের আবার প্রথমবর্ষে ভর্তি হয়ে ক্লাস করতে বলা হয়েছে। একই অভিযোগে আগামী ১৫ মার্চে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না ওই বর্ষের অন্তত ৪৫ জন শিক্ষার্থী। বিভাগের চেয়ারম্যানকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তিনি তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।
রবিবার দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবন আইন বিভাগের সভাপতির কক্ষের বাইরে অবস্থান নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দাবি করেন। এসময় তাদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে ‘আমরা ভুল করেছি, মাফ চাচ্ছি’, ‘একজন শিক্ষার্থীর একশ বছরের মূল্য রক্ষার দাবিতে আমরণ অনশন’, ‘আইন ভেঙেছি মেনে নিয়েছি, কিন্তু বাবার কাছে শেষ সুযোগ চাই, আমাদের জীবন উপহার চাই’, ‘আমাদের দোষে আমাদের বাবা-মার স্বপ্নভঙ্গ মেনে নিতে পারি না’, আমরা পেছালে দেশও পিছিয়ে যাবে’ ইত্যাদি স্লোগান লেখা ছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিভাগের তিনজন শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে এতো শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার ঘটনা নজির। এর আগে আইন বিভাগ কোনও শিক্ষার্থীকে ক্লাসে উপস্থিতির জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেনি। তাদের একবার সুযোগ দেওয়া উচিৎ বলেও তারা মনে করেন।
এ ব্যাপারে বিভাগের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ ওয়াহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কোনও শিক্ষার্থীর ৬০ ভাগ উপস্থিতি না থাকলে সে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। অ্যাকাডমিক কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ আমার নেই।
/জেবি/ এএইচ/আপ-এআর/








