বগুড়ায় শত্রুতার জেরে ডিশ ব্যবসায়ী রঞ্জু সরদারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা মামলায় চার ভাইসহ ১২ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। হত্যার প্রায় ১১ বছর পর সোমবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়ার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হাবিবা মন্ডলের আদালত এই রায় দেন।
আসামিদের মধ্যে সাত জন পলাতক রয়েছে। গ্রেফতারের পর থেকে তাদের সাজা কার্যকর হবে। আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি নাছিমুল করিম হলি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- বগুড়া সদরের বড় কুমিরা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আশরাফুল (৪১), বানদীঘি গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে জিন্নাহ প্রামানিক (৬৬), ঝোপগাড়ীর মফিজ উদ্দিনের ছেলে মাহফুজার রহমান (৫১), বড় কুমিড়া করিমপাড়ার ইনতাজ শেখের ছেলে খয়বর আলী শেখ (৩৯), একই গ্রামের মৃত হেলাল শেখের চার ছেলে রিপন শেখ (৩৫), রাবু শেখ (৩১), রাজু শেখ (৪৬) ও রিজু শেখ (৩৩), বানদীঘি বড়ালতলার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে একরাম হোসেন ওরফে প্যারাসুট (৬৩), একই গ্রামের মৃত রইচ উদ্দিনের ছেলে আইনুল ইসলাম (৫১), ঝোপগাড়ীর আকবার আলীর ছেলে আজগর আলী (৫৩) এবং বানদীঘি গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৯)।
এদের মধ্যে জামিনে ছাড়া পেয়ে আত্মগোপনে থাকা সাত জন হলেন- খয়বর আলী শেখ, রিপন শেখ, রাবু শেখ, রাজু শেখ, রিজু শেখ, একরাম হোসেন ওরফে প্যারাসুট ও আইনুল ইসলাম।
আদালত সূত্র জানায়, নিহত ডিশ ব্যবসায়ী বগুড়া সদর উপজেলার ছোট কুমিরা গ্রামের আজাহার আলী সরদারের ছেলে। তিনি ২০১২ সালের ৭ জুলাই সকালে ভাতিজাকে স্কুল ছাত্রকে নিশিন্দারা উপশহর এলাকায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজে রেখে বাড়ি ফিরছিলেন। ছোট কুমিরা এলাকায় বিএড কলেজের সামনে রাস্তায় পৌঁছালে শত্রুতার জেরে আসামিরা তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ওই দিন সদর থানায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ বিভিন্ন সময় আসামিদের গ্রেফতার করে। পরে
তারা সবাই জামিনে ছাড়া পায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নূরে আলম সিদ্দিকী ২০১৩ সালের ৫ জুন আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলা চলাকালে বাদল শেখ নামে এক আসামি মারা যান।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বগুড়ার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হাবিবা মন্ডল সোমবার দুপুরে ১২ আসামির মধ্যে পাঁচ জনের উপস্থিতিতে সাজা ঘোষণা করেন। পলাতক সাত জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাদের সাজা কার্যকর হবে।









