রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত এক শিশু মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির নাম মো. সোয়াদ। সাত বছর বয়সী এই শিশুর বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায়।
হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৩ জানুয়ারি) তার মৃত্যু হয়। এর আগে গতকাল রবিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তার শরীরে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়। এ নিয়ে চলতি বছরে রামেক হাসপাতালে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হলো।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউয়ের ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘গত শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) সকালে খেজুরের কাঁচা রস খেয়েছিল সোয়াদ। এরপর জ্বর ও খিঁচুনি দেখা দেয়। একপর্যায়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। শুক্রবার বিকালে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। শনিবার সকালে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের সন্দেহ হওয়ায় তার নিপাহ ভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়। এতে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়। সংকটাপন্ন শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি।’
এর আগে চলতি বছরের প্রথম সপ্তাহে রামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়। মৃত ওই নারী রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটার বাসিন্দা ছিলেন।
নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর পর থেকে রাজশাহীতে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) একটি টিম কাজ করছে। মৃত রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করেছে তারা।
এদিকে, নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর পর থেকে খেজুরের রস খাওয়াসহ বাদুড় ও পাখি খাওয়া অন্যান্য ফল না খাওয়ার বিষয়ে জোর তাগিদ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত ওই নারীও কাঁচা খেজুরের রস খেয়েছিলেন।
রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘নিপাহ একটি ভাইরাস। এটি নিয়ে আমাদের সতর্ক হতে হবে। তবে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। নিপাহ আক্রান্ত হয়ে যেহেতু দুজন মারা গেছেন সেহেতু সংক্রমণের ঝুঁকি আছে। তাই খেজুরের রস খাওয়া যাবে না। যদি খেতে হয় তবে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরম করে খেতে হবে। এছাড়া পাখি খাওয়া ফল না খাওয়া যাবে না।’







